“আলুর দামেও হচ্ছে কারসাজি!”-কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে এবার আন্দোলনে নামলেন শুভেন্দু

কৃষকদের ন্যায্য মূল্য এবং কৃষি নীতিতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বুধবার কল্যাণী শহরে এক বড় আন্দোলনের সূচনা করেছেন। আলু চাষিদের বঞ্চনা এবং কোল্ড স্টোরেজে আলু মজুত করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর অভিযোগ তুলে বিজেপি বিধায়ক ও নেতাদের নিয়ে তিনি এক অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “রাজ্য সরকার অধিকাংশ চাষিকে বঞ্চিত করছে। কালীপুজো পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত ১২০০ টাকা এখনো মেলেনি, মুখ্যমন্ত্রীর দেখা নেই।” তিনি বলেন, “একজোট হয়ে এদের তাড়াতে হবে।” কৃষকদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা ছিল, “আমাদের লক্ষ্য অর্জুনের মতো স্পষ্ট থাকতে হবে।” তিনি জানান, কিছু কৃষক ইতিমধ্যেই সরকারের সার্কুলার নিয়ে আদালতে গেছেন।

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভোট ঘোষণা হলে জাতীয় নেতারা বাংলায় আসবেন এবং সংকল্পপত্রে নারী সুরক্ষা, কৃষকদের দাবি-দাওয়া সহ সমস্ত বিষয় গুরুত্ব পাবে। তিনি উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “যোগীজি পেট্রোল-ডিজেলে কৃষকদের জন্য ভর্তুকি চালু করেছেন, কিন্তু বাংলায় ‘চোর মমতা’ বিদ্যুৎ বিল দিয়ে কৃষকদের গলা কেটে নিচ্ছেন।”

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই আন্দোলন তার লড়াইয়ের সূচনা মাত্র। “আমাকে কালো পতাকা দেখানো হয়েছে, যত বাধা দেবে, তত লড়াই করব, তত আসব,” তিনি বলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই লড়াইকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

আলু চাষিদের দুর্দশার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এখানকার প্রধান ফসল আলু। রাজ্য সরকার কোল্ড স্টোরেজে নিয়ে বাজারে দাম বাড়াচ্ছে এবং বাইরের রাজ্যে বেশি দামে বিক্রি করছে, অথচ চাষিরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।” সিঙ্গুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন যে, ফেব্রুয়ারী ২০২৫-এ রাজ্য সরকার ১৫ টাকা কেজি দরে ২ কোটি ২০ লক্ষ বস্তা আলু কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কৃষকদের দাবি, নারী সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধের মতো বিষয়গুলি একসঙ্গে উঠে এসেছে, যা আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করছে।