সুপ্রিম কোর্টের বাইরে হাতাহাতি ,পথ কুকুর বিতর্কে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

পথ কুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশের পর দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই বিতর্কের মাঝে আদালতের বাইরে পশুপ্রেমী এবং আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
গত ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআর (জাতীয় রাজধানী অঞ্চল)-এর আবাসিক এলাকা থেকে সমস্ত পথ কুকুরকে অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পরেই পশুপ্রেমী ও প্রাণী অধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর প্রতিবাদে আদালতের বাইরে একটি বিক্ষোভ চলাকালে এক আইনজীবী এবং এক সাধারণ নাগরিকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই আইনজীবী ক্ষুব্ধ হয়ে বারবার ওই ব্যক্তিকে আঘাত করছেন। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আদালতের এই নির্দেশে বলা হয়েছিল, আশ্রয়কেন্দ্রে কুকুরদের জন্য পেশাদার কর্মী, নির্বীজন ও টিকাকরণের ব্যবস্থা, সিসিটিভি এবং অন্যান্য সব সুবিধা থাকতে হবে। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা বলেছিলেন, “আমরা এটা নিজেদের জন্য করছি না, জনস্বার্থে করছি। কোনো আবেগের জায়গা যেন না থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা নিন।” সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাণী অধিকার কর্মী মেনকা গান্ধী এটিকে ‘অবাস্তব এবং আর্থিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “দিল্লিতে তিন লাখ কুকুর আছে। সবাইকে সরাতে গেলে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। দিল্লির কাছে কি এত টাকা আছে?”
এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই জানিয়েছেন, পথ কুকুর সরানোর নির্দেশটি পুনর্বিবেচনা করা হবে। ফলে আপাতত এই সিদ্ধান্তের ওপর একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।