কুমোরটুলি থেকে দুবাই যাচ্ছে ১৮ ইঞ্চির মাটির দুর্গাপ্রতিমা, আবেগে ভাসছেন প্রবাসীরা

চারপাশে এখন শুধুই আগমনীর সুর। এই শারদোৎসবে বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্য পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ফাইবারের বড় প্রতিমার পরিবর্তে এবার কুমোরটুলি থেকে মাটির তৈরি এক বিশেষ দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে দুবাই। এই মূর্তিটির উচ্চতা মাত্র ১৮ ইঞ্চি, যা সাধারণত বিদেশে পাঠানো মূর্তির চেয়ে অনেক ছোট।

দুবাই ও শারজাহে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের ক্লাব ‘ইমেরিটেস বেঙ্গলি ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (EBCI)’ এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কল্যাণ ভট্টাচার্য জানান, প্রবাসে থাকলেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্য মেনে দুর্গাপূজা করতে চান। তাই তারা ঠিক করেন, ফাইবারের নয়, বরং বাংলার নিজস্ব মাটির প্রতিমাতেই তারা দেবীর আরাধনা করবেন, যা পূজা শেষে বিসর্জন দেওয়া যাবে।

এই বিশেষ প্রতিমাটি তৈরি করছেন কুমোরটুলির প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী বঙ্কিম পাল। তিনি জানান, তার পরিবার পাঁচ প্রজন্ম ধরে ছোট আকারের মূর্তি তৈরি করে আসছে। এর আগেও তিনি বিদেশে মূর্তি পাঠিয়েছেন, তবে এত ছোট মাটির মূর্তি যা সুটকেসে করে নিয়ে যাওয়া যায়, এমন অভিজ্ঞতা বিরল। তিনি বলেন, “মূর্তিটি এতটাই ছোট যে এটি পাঠানোর জন্য কোনো বাড়তি খরচ বা জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না।”

শিল্পী বঙ্কিম পাল বলেন, “এই মূর্তিটি তৈরি করতে আমার ৪-৫ দিন সময় লেগেছে এবং এর দাম ১০ হাজার টাকা। মা দুর্গার সঙ্গে থাকা সন্তানদের উচ্চতা প্রায় এক ফুট।”

দেবব্রত মাইতি, যিনি পুজোর সমস্ত সরঞ্জাম পাঠানোর বরাত পেয়েছেন, তিনি জানান, দুবাইয়ের এই ক্লাব একটি পাঁচতারা হোটেল ভাড়া করে পঞ্জিকা মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে পূজা করবে। পূজা শেষে মায়ের এই মাটির মূর্তি আরব সাগরে বিসর্জন দেওয়া হবে, যা প্রবাসে বাংলার সংস্কৃতিকে জীবন্ত করে তুলবে। এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, ইচ্ছা থাকলে প্রবাসেও বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।