বন্ধ হয়ে গেল ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট, বাড়ছে দাম বৃদ্ধির শঙ্কা

তামিলনাড়ুর বৃহত্তম কুদানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে বিদ্যুতের ঘাটতি এবং দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ৭ই আগস্ট কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (CEA) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কুদানকুলমের ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-১, যা দক্ষিণ ভারতের বিদ্যুতের একটি প্রধান উৎস, তা গত ৩রা আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে।
তামিলনাড়ু ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড জেনারেশন কোম্পানির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তবে রাজ্যকে বাজার থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হতে পারে। যেহেতু ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে, তাই পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
কেরালা স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ড লিমিটেড (KSEBL) তাদের এক আবেদনে জানায়, এই ইউনিটটি বন্ধ থাকার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি আরও বাড়বে। এর ফলে KSEBL-কে স্বল্প মেয়াদের জন্য উচ্চ দামে বিদ্যুৎ কিনতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনিটটি প্রায় ৬৫ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সময়ে KSEBL-কে পিক-আওয়ারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যার প্রতি ইউনিটের দাম ৯.১৮ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। KSEBL আরও জানিয়েছে যে, এই মাসে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং কুদানকুলমের ইউনিট-১ বন্ধ থাকা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে, তামিলনাড়ুর একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, কুদানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-২ স্বাভাবিকভাবেই চালু আছে।
ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ৯ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সেই লক্ষ্য পূরণের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।