বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট নিয়ে নতুন সমীকরণ, মালদহে জমি শক্ত করতে নামছে মিম

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে চলেছে। বিশেষত মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে যেখানে এই শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক। সম্প্রতি বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর হেনস্থার ঘটনা এই ভোটারদের মন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিতে, এতদিন মূল রাজনৈতিক দলগুলি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এই শ্রমিকরা এখন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)-এর মতো দলগুলির দিকে ঝুঁকছেন।
এই সুযোগ কাজে লাগাতে আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল মিম মালদায় নিজেদের জমি পোক্ত করার জন্য জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী ২২ থেকে ২৪শে আগস্ট তারা কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে শ্রমিক সমাবেশ করবে। মিমের মালদা জেলা সভাপতি রেজাউল মোমিন বলেন, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও একটি পঞ্চায়েত সমিতির আসন দখল করেছি। তখনই বুঝেছিলাম যে আমাদের যথেষ্ট জনসমর্থন আছে, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আমরা এই জেলার ১২টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছি।”
অন্যদিকে, পরিযায়ী শ্রমিকরা মূল রাজনৈতিক দলগুলোর উপর তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পঞ্জাবে কাজে যাওয়ার পথে আসিফ আলি নামে এক শ্রমিক বলেন, “আমাদের মতো পরিযায়ী শ্রমিকরা সবসময়ই রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী হাতিয়ার। কাজের নিশ্চয়তা বা মজুরির স্থিরতা কোনোটাই আমরা পাই না। বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে, সে ব্যাপারেও মূল দলগুলো কোনো পদক্ষেপ নেয় না।” তিনি জানান, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এখন তারা বিকল্প রাজনৈতিক দলের কথা ভাবছেন।
সিপিআইএম-এর শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ-এর প্রাক্তন জেলা নেতা আবদুল জাব্বারও এখন মিমের শ্রমিক সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগামী ২২শে আগস্ট কালিয়াচকের জালালপুরে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শ্রমিক সমাবেশ হতে চলেছে, যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা মিমে যোগ দেবেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই শ্রমিকরা শুধু ব্যবহৃত হয়েছেন, এবার জবাব দেওয়ার পালা।”
মালদা জেলার মোট ৩৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারই পরিযায়ী শ্রমিক, যা মোট ভোটারের প্রায় ২৭ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মন জয় করতে মূল রাজনৈতিক দলগুলিও তৎপর হচ্ছে। মালদা দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী জানান, তার দল পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে সবসময় পাশে থেকেছে এবং তাদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছে এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে শ্রমিকরা নিশ্চিন্তে থাকেন।
তবে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদারের দাবি, মিম-এর মতো দল যাই করুক না কেন, তার কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতিতে মালদা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।