“CBI চাইছে হাত গুটিয়ে নিতে”-গুরুতর অভিযোগ নির্যাতিতার মা-বাবার, ফিরিয়ে দিলেন পুরস্কারও

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আবারও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তার মা-বাবা। সিবিআইয়ের তদন্তে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারী সংস্থা এই মামলা থেকে হাত গুটিয়ে নিতে চাইছে। প্রতিবাদস্বরূপ দিল্লি সরকারের দেওয়া ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ও ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মধ্যরাতে আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে তরুণী ডাক্তারের অর্ধনগ্ন ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ঝড় ওঠে। সরকারের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে গর্জে ওঠে সাধারণ মানুষ। আজ ৮ আগস্ট এবং আগামীকাল ৯ আগস্ট এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামী শনিবার নির্যাতিতার মা-বাবা নবান্ন অভিযানে নামবেন বলে জানিয়েছেন।
দিল্লি থেকে ফিরে তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা সিবিআই তদন্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নির্যাতিতার মায়ের কথায়, “সিবিআই কিছু করবে না, আমাদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হবে। এর পেছনে নিশ্চয়ই রাজনৈতিক চাপ আছে।” তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির বিষয়ে জানত। তাকে ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করে মেধার জোরে গোল্ড মেডেল পেতে চেয়েছিল। “আর এটাই ছিল ওর সবচেয়ে বড় ভুল,” আক্ষেপের সুরে বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার হাত থেকে প্রাপ্ত ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, “যেদিন আমার মেয়ে ন্যায়বিচার পাবে, সেদিন আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করব।”
নির্যাতিতার বাবাও সিবিআইয়ের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সিবিআই ডিরেক্টর নিজেই তিনবার বলেছেন যে তিনি সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেবেন। কিন্তু যখন আমরা পাল্টা প্রশ্ন করি, তখন তারা বিরক্ত হয়ে বলেন, আমরা এই মামলা থেকে সরে যাব। ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে তারা এক বছর পর এসে বলছেন যে কেস ছেড়ে দেবেন! তাহলে এক বছর ধরে কী করছিলেন? ঘাস কাটছিলেন? আমার মতে, প্রতিটি সিবিআই অফিসই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”
পরিবারের এই কঠোর মন্তব্য এবং দিল্লি সরকারের পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার এক বছর পরেও ন্যায়বিচারের পথ এখনও অনেক দীর্ঘ।