রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগ, ভোটে কারচুপি করেছে বিজেপি-নির্বাচন কমিশন জোট, তথ্য-প্রমাণ পেশ

লোকসভা নির্বাচনের পর এবার ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ নিয়ে সরাসরি ময়দানে নামলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তথ্য-প্রমাণ সহকারে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন এবং এর পেছনে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি দায়ী করেছেন। রাহুলের এই অভিযোগের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, কর্ণাটকের একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্র মহাদেবপুরায় কংগ্রেসের তদন্তকারী দল ১,০০,২৫০টি ভোটের কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখান, কীভাবে ভুয়ো ভোটার, জাল ঠিকানা, এবং এক ঠিকানায় একাধিক ভোটারের নাম ঢুকিয়ে এই কারচুপি করা হয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের ভোটার, এমন নজিরও তিনি তুলে ধরেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মহাদেবপুরা বিধানসভায় ৪০ হাজার এমন ভোটার রয়েছে, যাদের বাড়ির ঠিকানা ‘০’ বা ‘#’। বাড়ি নং ৩৫-এ ৮০ জন এবং ৭৯১-এ ৪৬ জন ভোটারের নাম রয়েছে, যেখানে বাস্তবে এতজনের বসবাস করা সম্ভব নয়।

এই অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন রাহুলের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়েছে এবং কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে এই অভিযোগ জমা দিতে বলেছে। কমিশন রাহুলের কাছে তার অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ জমা দিতেও বলেছে।

রাহুল গান্ধী কমিশনের এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “আপনার যে পদেই থাকুন না কেন, আপনাদের রেয়াত করা হবে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল ভোটার তালিকা দিতে অস্বীকার করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ৪৫ দিনের মধ্যে মুছে ফেলার বিধি পরিবর্তন করেছে, যা কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এই ইস্যু যে ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করবে, তা নিশ্চিত। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা কাল বেঙ্গালুরুতে এই ইস্যুতে একটি বড় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবেন। এছাড়াও, আগামী সোমবার ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা দিল্লিতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত একটি যৌথ মিছিল করবেন। আজ রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।