মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, হাইকোর্টের রক্ষাকবচ

অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন তার প্রাক্তন সচিব সুমন রায়চৌধুরী এবং তার স্ত্রী। এই অভিযোগে মিঠুন এবং তার ঘনিষ্ঠ বিমান সরকারকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি হোটেল সাজানোর কাজ করিয়ে নেওয়ার পর মিঠুন চক্রবর্তী ও তার ঘনিষ্ঠরা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বাকি রেখেছেন। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট মিঠুন চক্রবর্তীকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে।

সুমন রায়চৌধুরীর অভিযোগ অনুযায়ী, মিঠুন এবং বিমান সরকার তাকে দিয়ে একটি হোটেল ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজ করান। প্রথম দফায় কিছু টাকা পেলেও, পরবর্তী অতিরিক্ত কাজগুলো তাকে জোর করে করানো হয়। এই কাজ করতে গিয়ে সুমন বাবুকে তার স্ত্রীর গয়না পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছে।

সুমন রায়চৌধুরী জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর মিঠুন চক্রবর্তী এবং বিমান সরকার বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত কাজের কোনো লিখিত নথি না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন। তার দাবি, মিঠুনের কাছে তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পান।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, টাকা চাইতে গেলে সুমন বাবুর স্ত্রীকে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়। এরপরই তারা উত্তর কলকাতার চিৎপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এই অভিযোগ খারিজের আবেদন জানিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, তদন্ত চলতে থাকবে এবং মিঠুনকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। বিচারপতি আগামী ৩রা সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলার কেস ডায়েরি তলব করেছেন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক এবং চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।