নার্সিং ছাত্রকে গুলি করে হত্যা, আন্তঃজাতীয় বিয়ের জের, অভিযুক্ত শ্বশুর গ্রেফতার

বিহারের দরভাঙ্গায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় আন্তঃজাতীয় বিয়ের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক নার্সিং ছাত্র। মাত্র ২৫ বছর বয়সী ওই নিহত ছাত্রের নাম রাহুল কুমার, যিনি দরভাঙ্গা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিএসসি (নার্সিং) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর শ্বশুর প্রেমশঙ্কর ঝা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, যা ঘটেছে রাহুলের নববিবাহিতা স্ত্রী তন্নু প্রিয়ার সামনেই।

তন্নু প্রিয়া, যিনি নিজেও প্রথম বর্ষের নার্সিং শিক্ষার্থী, জানান, তাদের আন্তঃজাতীয় বিয়ের কারণে তার পরিবার বরাবরই ক্ষুব্ধ ছিল। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তন্নু বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় একজন হুডি পরা ব্যক্তি রাহুলের দিকে এগিয়ে আসে। আমি চিনতে পারি, সে আমার বাবা। তার হাতে বন্দুক ছিল। সে আমার স্বামীকে আমার চোখের সামনেই বুকে গুলি করে। আমার স্বামী আমার কোলের মধ্যে পড়ে যায়।” তন্নু আরও জানান যে, এই হত্যাকাণ্ডে শুধু তার বাবাই নয়, তার পুরো পরিবার জড়িত।

ঘটনার পর রাহুলের সহপাঠীরা প্রেমশঙ্কর ঝাকে বেধড়ক মারধর করে, যার ফলে তাঁকেও ওই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাটনার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দরভাঙ্গার জেলা শাসক কৌশল কুমার এবং সিনিয়র পুলিশ সুপার জগন্নাথ রেড্ডি হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসএসপি জগন্নাথ রেড্ডি সাংবাদিকদের জানান, “আমরা জানতে পেরেছি যে এক বিএসসি (নার্সিং) ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাঁর শ্বশুরই তাঁকে গুলি করেছেন।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাহুলের পরিবারের সদস্য এবং সহপাঠীরা এই নির্মম ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।