কোচবিহারে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা, অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে

কোচবিহারে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার অভিযোগ উঠল। এই হামলার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করে ঘোকসাডাঙা থানার ওসি এবং মওয়রাপড়ার আইসির কাছে ১১ পাতার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।


 

বুলেটপ্রুফ গাড়ি বাঁচিয়েছে প্রাণ

 

শুভেন্দু অধিকারী কোচবিহারে এসপি অফিস অভিযানে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তার কনভয়ে বাঁশ, লাঠি, এবং ইট নিয়ে হামলা চালানো হয়। বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এই হামলার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভালো কাজে এসেছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এসেছি, তাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমি যদি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে না থাকতাম, তাহলে আপনারা আজ আমার মৃতদেহের সামনে ফুল নিয়ে দাঁড়াতেন।” Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই হামলা হলো, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনার খবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পর্যন্ত পৌঁছেছে।


 

রাজ্যজুড়ে বিজেপি-র প্রতিবাদ

 

শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে নেমে আসেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কলকাতার মৌলালির মোড় এবং বেহালা ১৪ নম্বর ডায়মন্ড হারবার রোডে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। একই সাথে সোনারপুর মোড়ে মিছিল করে প্রতিবাদ জানান দলীয় কর্মীরা।

জেলাগুলিতেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। ধূপগুড়িতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধূপগুড়ি চৌপথি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়। বনগাঁর দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের নেতৃত্বে শতাধিক কর্মী হাবরা স্টেশন রোডের মুখে যশোর রোডে বিক্ষোভ করেন। ঘাটালের রাজ্য সড়ক অবরোধ করে মন্ত্রী উদয়ন গুহর ছবিতে জুতো মেরে এবং ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বিজেপি কর্মীরা।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে।