কলকাতায় কলেরার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা, সতর্ক কলকাতা পুরসভা

বর্ষা মানেই কলকাতার জন্য জলযন্ত্রণা, আর জলজমা মানেই রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা। এবার সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র চার বছরের এক শিশুকন্যার শরীরে কলেরার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। জ্বর, বমি, এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয় শিশুটি। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরসভা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করেছে পুর প্রশাসন।

কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, “সম্প্রতি যেসব এলাকায় জল জমেছিল, সেই সব অঞ্চলের পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কলেরার জীবাণু ছড়িয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য।” পর্ণশ্রী অঞ্চলের ওই শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বছর এই প্রথম নয়, এর আগেও এক যুবকের শরীরে কলেরার সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। জুলাইয়ের ৭ তারিখে পিকনিক গার্ডেন রোডের এক যুবক একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানেও চিকিৎসকরা কলেরার সংক্রমণ নিশ্চিত করেছিলেন।

কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বর্ষায় জল জমা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এই জমা জল যদি পানীয় জলের লাইনে ঢুকে যায়, তাহলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যদিও পুরসভার একাংশ বলছে, এখনো পর্যন্ত পানীয় জলের নমুনায় কোনো বিপজ্জনক কিছু ধরা পড়েনি, তবুও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে জল সরবরাহের মূল উৎস এবং পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশ থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলেরা সাধারণত বর্ষাকালে জলবাহিত রোগ হিসেবে মাথাচাড়া দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই রোগ গুরুতর হতে পারে। তাই এবার পুরসভা আগেভাগেই এই সমস্যার মোকাবিলা করতে চাইছে। গত বছরও এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল, তবে সংখ্যাটা ছিল সীমিত। এবার জল জমার পরিমাণ বেশি এবং একাধিক আক্রান্তের খবর মেলায় যেকোনো অসতর্কতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। পানীয় জলের লাইনে বৃষ্টির জল যেন না ঢুকতে পারে, সেই বিষয়েই এখন কলকাতা পুরসভা সবথেকে বেশি সতর্ক।