দেড় মাস ধরে ছাদেই সংসার পেতেছে ৩৫০ পরিবার, ঘাটালের অজবনগর গ্রামে বন্যা দুর্গতদের চরম দুর্দশা

ঘাটাল শহর থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত অজবনগর গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশো পরিবারের জীবন এখন থমকে গেছে। গত দেড় মাস ধরে এই গ্রামের সব পরিবারই তাদের বাড়ির ছাদে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া বন্যার জল এখনও কমার কোনো লক্ষণ নেই, যা এই অঞ্চলের মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অজবনগর গ্রামের গণেশ পোড় জানান, গত ১৯ জুন থেকে তার একতলা বাড়ি জলের তলায়। সেদিন থেকেই পুরো পরিবার নিয়ে ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। ছাদে ত্রিপল দিয়ে ছাউনি করে সেখানেই রান্না ও খাওয়া-দাওয়া চলছে। ব্লক প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে নৌকায় করে খিচুড়ি ও পানীয় জলের পাউচ পৌঁছে দেওয়া হয়। অনেকেই আবার ছাদে গ্যাস বা উনুনে একবেলা ভাত রান্না করছেন।
গ্রামের চারদিকে থইথই করছে ঘোলা জল। বাইরে যাওয়ার একমাত্র উপায় নৌকা বা ডোঙা। গণেশ পোড়, বিকাশ দোলই, পূর্ণ পোড়, লক্ষ্মণ পোড় এবং গুনধর বড়দোলইয়ের মতো অনেকেই বাজার-হাট করার জন্য নিজেদের ডোঙা নিয়ে শহরে যান। এই দীর্ঘ জলবন্দি অবস্থায় পানীয় জলের জন্য সরকারি পাউচের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গণেশ পোড় হতাশার সঙ্গে বলেন, “সাধারণত সেপ্টেম্বরের দিকে বন্যা হয়। কিন্তু এবার জুন মাসেই বন্যা শুরু হয়ে গেল। দেড় মাস ধরে ছাদে আছি। তাহলে কি আরও দেড় মাস থাকতে হবে?”
ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ মাজি জানান, ঘাটাল ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ জলবন্দি এবং আরও দুটি আংশিক জলমগ্ন। প্রায় ২২টি গ্রামের সবকটি বাড়ির একতলা জলের নিচে। তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে প্রায় তিন মাস জলবন্দি থাকতে হবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”
বন্যা দুর্গতদের প্রশ্ন, আর কতদিন তাদের এভাবে অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হবে, তার কোনো উত্তর এখনো মেলেনি।