টোটোর জন্য মিলছে না যাত্রী, দুর্গাপুরে বন্ধের পথে মিনিবাস–অটো!

দুর্গাপুর শহরে মিনিবাস ও অটো পরিষেবা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মিনিবাস মালিক এবং অটোচালকদের অভিযোগ, লাইসেন্সহীন টোটোগুলির অবাধ চলাচলের কারণে তাদের যাত্রীসংখ্যা এবং আয় ব্যাপক হারে কমেছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হওয়ায় তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দেখেন, মিনিবাস ও অটো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে আসা যাত্রীরাও গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে ক্যাব বা ট্যাক্সি নিতে বাধ্য হন তারা। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবহন দপ্তরকে মিনিবাস মালিকদের সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর দুপুরে পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে মিনিবাস মালিকদের একটি বৈঠক হলেও তাতে কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি।
মিনিবাস মালিক সংগঠনের সভাপতি অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা দাবি করেছিলাম, মিনিবাসের রুটে টোটোর চলাচল বন্ধ করতে হবে। কিন্তু পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। তাই আমরা মিনিবাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখছি।”
অটোচালকদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। তারা বলেন, মিনিবাস ও অটোচালকদের সরকারকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স দিতে হয়, অথচ টোটোচালকদের কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। তাদের রুটে যত্রতত্র টোটো চলার কারণে তাদের রোজগার কমে গেছে। এক বাসকর্মী সহদেব কুণ্ডু জানান, “৩৫ বছর ধরে কন্ডাক্টারি করছি, কিন্তু এখন রোজগার বলতে কিছুই নেই। বাস চালিয়ে তেলের খরচও ওঠে না।”
মিনিবাস ও অটো বন্ধ থাকার সুযোগে সোমবার টোটোচালকদের আয় ভালো হয়েছে। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, পেটের তাগিদেই তারা টোটো চালাচ্ছেন এবং তাদের কাছে বিকল্প আয়ের কোনো পথ নেই। এক টোটোচালক স্বপন দাস বলেন, “আগে দোকানে সামান্য মজুরিতে কাজ করতাম, সংসার চলত না। এখন টোটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি।”
এই ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবারও অটো চলবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত অটোচালকদের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।