OMG! ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে নৃশংস খুন, ২৫ দিনে সাজা ঘোষণা করলো আদালত

এক সময় বিচার পেতে মানুষের দিনের পর দিন আদালতে ঘুরতে হতো, কিন্তু এখন বিচার ব্যবস্থায় দ্রুততা আসছে, বিশেষ করে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে। উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে সম্প্রতি এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে মাত্র ২৫ দিনের শুনানিতে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৮ জুন নারখি থানা এলাকার একটি গ্রামে। নির্যাতিতা তার ঠাকুমার বাড়িতে গিয়েছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্ত কৌশল তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিশঙ্কর প্রসাদ বৃহস্পতিবার জানান, ধর্ষণের পর কৌশল ওই নাবালিকা মেয়েটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং তার দেহ ইটের নিচে পুঁতে রাখে। ভুক্তভোগীর পরিবার কৌশল, তার বাবা অর্জুন সিং, মা রাধা এবং ভাই মনীশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের করে। পুলিশ দ্রুত মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
এরপর থেকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মামলার শুনানি চলে। বিশেষ বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) মুমতাজ আলীর আদালতে মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে ৯ জন সাক্ষী এবং সমস্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। বুধবার, বিশেষ বিচারক মুমতাজ আলি অভিযুক্ত কৌশলকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ‘তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কারাগারে আটক’ রাখার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ, তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই জঘন্য অপরাধে সহায়তা করার জন্য অপরাধী কৌশলের বাবা অর্জুন সিং, মা রাধা এবং ভাই মনীশকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা এবং আদালতের দ্রুত শুনানির কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিচার বিভাগের এই দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করবে। এটি একটি উদাহরণ স্থাপন করল যে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং অপরাধীরা পার পাবে না।