“১৭ হাজার কোটির ঋণ জালিয়াতি মামলা”-রিলায়েন্সের অনিল আম্বানিকে ED-র তলব

রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনিল আম্বানিকে এবার ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী ৫ই আগস্ট তাঁকে নয়াদিল্লিতে ইডি-র সদর দফতরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা অনিল আম্বানি এবং তাঁর রিলায়েন্স গ্রুপের জন্য এক নতুন আইনি জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি, এই ঋণ জালিয়াতির অভিযোগেই ইডি রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিলের সাথে যুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির দফতরে ব্যাপক অভিযান চালায়। মুম্বাইয়ের একাধিক অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতেও এই তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হলেও সেটি ব্যবসায়িক খাতে ব্যয় না করে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আর্থিক গরমিল ধরা পড়েছে এবং সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।
‘উইলফুল ডিফল্টার’ ঘোষণা করেছিল এসবিআই:
উল্লেখ্য, গত মাসেই স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) অনিল আম্বানিকে ‘উইলফুল ডিফল্টার’ বা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করেছিল। ডিসেম্বর ২০২৩, মার্চ ২০২৪ এবং সেপ্টেম্বর ২০২৪ – এই তিনটি সময়ে এসবিআই রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জবাব পরীক্ষা করে ব্যাঙ্ক জানায় যে, ঋণের শর্তাবলী যথাযথভাবে মানা হয়নি এবং ঋণ-অ্যাকাউন্টের লেনদেনে বহু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
ইডি-র তল্লাশি অভিযান ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
ইডি-র দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তল্লাশি অভিযানে বহু কম্পিউটার হার্ডড্রাইভ, ফাইল এবং ইমেল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া, একাধিক নথি ও অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। অভিযানের সময় কিছু আর্থিক পরামর্শদাতাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তদন্তে আরও কয়েকটি কোম্পানি বা ব্যক্তির নাম উঠে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা এই মামলার ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে পারে। অনিল আম্বানির হাজিরা এবং পরবর্তী তদন্তের দিকেই এখন সবার নজর।