পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে অনাচার! গোপনে ভিডিও করতে গিয়েই আটক যুবক, এর পিছনে ছিল কোনও ভয়ঙ্কর উদ্দেশ্য?

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অভ্যন্তরে যে কাজ বহু বছর ধরে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেই কাজ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক যুবক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এটি নিছকই কৌতূহলবশত করা কাজ নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ও বিপজ্জনক উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

মন্দিরের ভিতর থেকে এক যুবককে আটক করা হয়েছে, যিনি গোপনে মন্দিরের ছবি তুলছিলেন এবং ভিডিও রেকর্ড করছিলেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, তিনি কোনো সাধারণ মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যবহার করেননি, বরং চশমায় লাগানো স্পাই ক্যামেরার মাধ্যমে এই কাজ করছিলেন। এতেই নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।

সর্বজনবিদিত যে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই কারণে মন্দিরের ভিতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশও কঠোরভাবে বারণ। এমতাবস্থায়, এক যুবক সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্পাই ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। ধৃত যুবকের নাম অভিশিত কর এবং তিনি ভুবনেশ্বরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার মন্দির প্রাঙ্গণে অভিশিত করের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখে তাঁকে কাছে ডাকা হয়। এরপর তাঁকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই আসল ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। দেখা যায়, ওই যুবক একটি রে-ব্যান মেটা ওয়েফার চশমা পরেছিলেন, যেটিতে একটি ক্যামেরা সংযুক্ত থাকে। এই ধরনের চশমার ক্যামেরা ফোনের সাথে যুক্ত থাকে এবং এর মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারও করা সম্ভব।

ধৃত যুবক কেন স্পাই ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন, সে বিষয়ে তিনি এখনও কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। পুলিশ তাঁকে আটক করেছে এবং বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এই ভিডিওগুলি তিনি কাউকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন কিনা, বা এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।