“গাজা নিয়ে কেন চুপ প্রধানমন্ত্রী?”-সনিয়া গান্ধীর নিশানায় এবার ভারতের বিদেশনীতি

গাজায় ইজরায়েলের লাগাতার হামলা এবং এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক সংকট নিয়ে ভারতের বিদেশনীতি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি গাজার পরিস্থিতিকে “মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্য অপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোনিয়া গান্ধী তাঁর প্রবন্ধে গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর কঠোর অবরোধ ও সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইজরায়েল শুধু সামরিক অভিযানই চালাচ্ছে না, বরং ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানির মতো অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্রের সরবরাহকেও বাধা দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “এই নিষ্ঠুর কৌশলের ফলে গাজার সাধারণ মানুষকে অনাহার, রোগ আর চরম সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে।”
প্রবন্ধে সোনিয়া আরও লিখেছেন যে, গাজার পরিকাঠামোকে “পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে” এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তা “এক ভয়ঙ্কর মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের জন্ম দিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গাজার বহু মানুষ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। হাসপাতালগুলিতে ওষুধের তীব্র অভাব, খাবারের অভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং জ্বালানির অভাবে পরিষেবা প্রায় বন্ধ। এই পরিস্থিতিকে তিনি “মানুষকে না খাইয়ে মারার এক নীতিগত কৌশল” বলে উল্লেখ করেছেন এবং একে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, গাজার উপর ইজরায়েলের এই “অমানবিক আচরণ”-এর বিরুদ্ধে ভারতের উচিত ছিল একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা। তিনি লিখেছেন, “এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীরবতা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভারত বরাবরই মানবতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলেছে। এখন সময় এসেছে, সেই ঐতিহ্যের দিকেই জোরালোভাবে ফিরে তাকানোর।”
সনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন গাজায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকটের গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তার এই কড়া মন্তব্য ভারতের বর্তমান বিদেশনীতি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।