পরকীয়ার বলি স্বামী, বিষ দিয়েও ব্যর্থ, দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় খুন! ফিরোজাবাদে চাঞ্চল্য

পরকীয়া প্রেমের পথে ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ানো স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এমনকি, একবার বিষ প্রয়োগে ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়েননি তিনি, দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ফিরোজাবাদের টুন্ডলায়। পুলিশ মৃত যুবকের স্ত্রী এবং তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।
সংবাদমাধ্যম ‘অমর উজালা’-য় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই মৃত যুবক সুনীল যাদবের মা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই সুনীলের অভিযুক্ত স্ত্রী শশী এবং তার কথিত প্রেমিক যাদবেন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুনীলের স্ত্রীর সঙ্গে ওই যুবকের এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।
পুলিশের দাবি, শশী এবং যাদবেন্দ্র মিলেই সুনীলকে খুনের এই ভয়াবহ পরিকল্পনা করেছিল। গত ১২ মে, স্ত্রী শশী স্বামীকে বিষ মেশানো দই খাইয়েছিলেন। দই খাওয়ার পর সুনীলের শরীর অসুস্থ হতে শুরু করে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও দমে যাননি শশী। অভিযোগ, মাত্র দু’দিন পর, অর্থাৎ ১৪ মে, আবারও একই পদ্ধতিতে স্বামীকে বিষ প্রয়োগ করেন তিনি। এই দ্বিতীয়বার আর সুনীলকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সুনীলের মা শশী এবং তার প্রেমিক যাদবেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, যাদবেন্দ্র অনলাইনে বিষ অর্ডার করেছিল।
তবে, এই মামলার তদন্তে পুলিশের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো মৃতদেহ ময়নাতদন্ত না হওয়া। যেহেতু সুনীলের পরিবার প্রথমে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করেনি, তাই সুনীলের দেহ দাহ করে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, পুলিশ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে, যেমন সুনীলের ব্যবহৃত জামাকাপড়, বিছানার চাদর এবং ফোন কল রেকর্ডস, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সুনীল এবং শশীর বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তাদের ১০ বছর বয়সী অংশু এবং ৬ বছর বয়সী দীপাংশী নামে দুটি সন্তানও রয়েছে। এই ঘটনা সমাজে পরকীয়ার ভয়াবহ পরিণতি এবং অপরাধপ্রবণতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যা ফিরোজাবাদের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।