দুর্গাপূজা এগিয়ে, অনুদানের অঙ্ক কি এক লক্ষ ছুঁচ্ছে? ৩১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে নজর পুজো কমিটিগুলির

মহালয়া ২১ সেপ্টেম্বর, আর মহাষষ্ঠী ২৮ সেপ্টেম্বর – অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দুর্গাপূজা অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। অক্টোবরের আগেই শেষ হয়ে যাবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই আবহের মধ্যেই রাজ্য সরকারের পুজো অনুদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন, এবং এবারও তাঁর ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের ৪৩ হাজারেরও বেশি পুজো কমিটি।

গত বছর প্রতিটি পুজো কমিটিকে ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল, যার জন্য রাজ্য সরকারের প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। রাজ্যের মোট ৪৩ হাজার নির্বাচিত ক্লাবের মধ্যে ৩ হাজার কলকাতার এবং বাকি ৪০ হাজার জেলার পুজো কমিটি এই অনুদান পেয়েছিল। অনুদানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ছাড়েরও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এবার ক্লাব বা পুজো কমিটির সংখ্যা বাড়বে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত বছর আরজি কর ইস্যু-র কারণে অনেক ক্লাব অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছিল; এবারও সেই ক্লাবগুলিতে অনুদান দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় সকলে।

৩১ জুলাইয়ের মেগা বৈঠক: প্রত্যাশা বাড়ছে অনুদানের অঙ্ক নিয়ে

সকল জল্পনার অবসান ঘটাতে আগামী ৩১ জুলাই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকেই সম্ভবত এবারের পুজো অনুদানের পরিমাণ ঘোষণা করা হবে। রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় কর্তা ও নেতামন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

পুজো কমিটিগুলির আশা, এবারের অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়বে এবং সম্ভবত তা ক্লাবপ্রতি ১ লক্ষ টাকা ছুঁতে পারে। গত বছরই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, অনুদানের টাকা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে, এবং চলতি বছর ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছিলেন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার দুর্গাপূজার জন্য ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেছিলেন, যা ২০২২ ও ২০২৩ সালে আরও ১০ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর ২০২৪ সালে তা একধাক্কায় ১৫ হাজার বাড়িয়ে ৮৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল।

সার্বজনীন পুজোর বার্তা: বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ

এবারের বৈঠকে একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিতে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দুইজন করে প্রতিনিধিকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ পুজোকে আরও সার্বজনীন করে তোলার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অতএব, আগামী ৩১ জুলাই নেতাজি ইন্ডোরের বৈঠক কেবল অনুদানের অঙ্ক ঘোষণার মঞ্চই হবে না, এটি রাজ্য সরকারের সংস্কৃতি এবং সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মও হয়ে উঠবে।