কেষ্টপুরে ঘাতক বাসের বলি ডেলিভারি বয়, ভিআইপি রোডে বেপরোয়া গতির মাশুল জীবন দিয়ে!

লাগাতার বৃষ্টির কারণে এমনিতেই যানজটে জেরবার কলকাতা, তার উপর বেপরোয়া গতির বলি হলেন এক তরুণ ডেলিভারি বয়। শনিবার বাগুইআটির কেষ্টপুর ভিআইপি রোডে ২১১ রুটের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল তাঁর। এই ঘটনা আরও একবার কলকাতার ব্যস্ত সড়কে পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে কেষ্টপুরের দিক থেকে একটি ২১১ রুটের বাস দ্রুত গতিতে খড়িবাড়ির কাছে কেষ্টপুর মোড়ে পৌঁছলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সাইকেল আরোহী ডেলিভারি বয়কে সজোরে ধাক্কা মারে। ছিটকে গিয়ে তিনি বাসের চাকার তলায় চলে যান এবং ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে যান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করে ভিআইপি রোডের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন চিকিৎসকরা; হাসপাতালে পৌঁছনোর পর পরই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম অমিত মান্না, বয়স আনুমানিক ৩০। তিনি মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছিলেন। দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য আরজিকর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বাসের চালকের বেপরোয়া গতির দিকে আঙুল তুলেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “দুটো ২১১ (বাস) একসঙ্গে চলছিল, একে অপরকে ওভারটেক করছিল। তখনই ধাক্কা দেয়। সেই সময় পুলিশ ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরাই (চালক ও কন্ডাক্টরকে) ধরলাম, তারপর অটো করে দিয়ে এলাম হাসপাতালে। রোজ এই ঘটনা ঘটে। ওভারটেক করতে যায় আর তারপর এই ঘটনা। যেখানে থেকে যাত্রী তুলছেন চালক, সেটা বাসস্ট্যান্ড নয়, তাও তোলেন।”
এই মন্তব্যে বাসের রেষারেষি, যত্রতত্র যাত্রী তোলা এবং ট্রাফিক পুলিশের নজরদারির অভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সামনে এসেছে। বৃষ্টিভেজা পিচ্ছিল রাস্তায় এই ধরনের বেপরোয়া গাড়ি চালানো যে কতটা বিপদজনক, তা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল। নিহত ডেলিভারি বয়ের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শহরের এই ব্যস্ত ভিআইপি করিডোরে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।