১৫ বছর পর স্বস্তি, ঘাটশিলার মাওবাদী নাশকতা মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন চন্দনা সিং ওরফে শোভা মুন্ডা

দীর্ঘ ১৫ বছরের কারাবাসের পর অবশেষে স্বস্তি পেলেন মাওবাদী নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্ত চন্দনা সিং ওরফে শোভা মুন্ডা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ মেদিনীপুর সংশোধনাগার থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা খুশি হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে এখনও বিচারাধীন রয়েছে আরও সাতটি মামলা।
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির মাজুগোড়া গ্রামের বাসিন্দা চন্দনা সিং ওরফে শোভা মুন্ডা মাত্র ১২ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়েছিলেন। এরপর তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ২০০৯ সালে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলায় মাওবাদী নাশকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে তাঁকে চাকুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১০ সালে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন। এছাড়াও, ঝাড়গ্রামেও তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শোভা মুন্ডা তাঁর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তবে, ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে জীবন অতিবাহিত করবেন, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, দীর্ঘ কারাবাসের পর এই মুক্তি তাঁর জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যা জয়শ্রী সরকার সহ আরও বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা শোভা মুন্ডার মুক্তিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন। জয়শ্রী সরকার জানান, ১৫ বছর ধরে সংশোধনাগারে থাকাকালীন ঘাটশিলার মাওবাদী নাশকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে যে মামলা চলছিল, তার বিচার ২০২২ সাল থেকে আটকে ছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শোভা মুন্ডা সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
এই ঘটনা আবারও বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় মানবাধিকারের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শোভা মুন্ডার মুক্তি একদিকে যেমন বিচার পাওয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের একটি দৃষ্টান্ত, তেমনই অন্যদিকে তাঁর বাকি বিচারাধীন মামলাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।