সল্টলেকে ক্যাব চালকের তাণ্ডব, অতিরিক্ত ভাড়া না পেয়ে মহিলা যাত্রীকে হেনস্তা ও মারধর, চালক গ্রেফতার

বৃষ্টিভেজা সকালে অফিস টাইমে সল্টলেকে এক ক্যাব চালকের চরম দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটল। অতিরিক্ত ভাড়া না পেয়ে এক মহিলা যাত্রীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে পুলিশ দ্রুত ওই চালককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা শহরের নিরাপত্তা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের বহু রাস্তায় জল জমেছিল, যার ফলে ট্র্যাফিকের গতি ছিল অত্যন্ত শ্লথ। এই পরিস্থিতিতে, এক মহিলা যাত্রী বাগুইআটি থেকে একটি অ্যাপ-ক্যাব বুক করে সল্টলেকের ডিএফ ব্লকে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ক্যাব চালক শাহবাজ আলি অ্যাপে দেখানো ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করতে শুরু করেন। চালকের দাবি ছিল, ঝড়-বৃষ্টিতে তাঁর গাড়ির ক্ষতি হয়েছে, রাস্তা খানাখন্দে ভরা, এবং তীব্র যানজট ছিল—এইসব কারণে তিনি অতিরিক্ত ভাড়া চান।
তবে, মহিলা যাত্রী এই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি হননি। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মহিলা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, অ্যাপে যে ভাড়া দেখানো হয়েছিল, তা দিয়ে তিনি গাড়ি থেকে নামতে যাওয়ার সময়ই চালক তাঁকে হেনস্তা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চালক মহিলার হাত মুচড়ে দেন এবং পেটে লাথিও মারেন। এই ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতায় মহিলা যাত্রী স্তম্ভিত হয়ে যান।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্ত
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত মহিলা পুলিশকে জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ক্যাব চালক শাহবাজ আলিকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, ধৃত শাহবাজ আলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নারায়ণপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তার গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
বিধাননগর কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা আমরা পরীক্ষা করছি। মহিলার বয়ান নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তেরও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
বিধাননগর কমিশনারেটের আওতাধীন নিউটাউন, শাপুরজি, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, কলেজ মোড়, করুণাময়ী সহ একাধিক এলাকায় বহু সরকারি ও বেসরকারি অফিস অবস্থিত। প্রতিদিন সকালে হাজার হাজার অফিসযাত্রীর ভিড় হয় এই এলাকায়। এই অঞ্চলের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর ২৪ পরগনার এই অংশটুকু আলাদা করে বিধাননগর কমিশনারেটের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশের আদলে ‘উইনারস টিম’ বা প্রমিলা বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। এত কিছুর পরেও দিনের বেলায় এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনা একদিকে যেমন কিছু ক্যাব চালকের বেপরোয়া মনোভাব এবং গ্রাহক হয়রানির চিত্র তুলে ধরেছে, তেমনই ব্যস্ত সময়ে মহিলাদের সুরক্ষায় আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।