সরকারি কর্মীরা এবার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখভালের জন্যও ছুটি পাবেন, জেনেনিন কত দিনের?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ সুখবর নিয়ে এলো কেন্দ্র সরকার। এবার থেকে ব্যক্তিগত যে কোনো কাজে বছরে ৩০ দিন ছুটি নিতে পারবেন কেন্দ্রীয় কর্মীরা, যার মধ্যে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনাও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যা কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনবে।

ব্যক্তিগত কাজের জন্য ৩০ দিন ছুটি:
সম্প্রতি রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই ঘোষণা করেছেন। পিটিআই সূত্রে খবর, সংসদে এক লিখিত জবাবে তিনি জানিয়েছেন যে, ১৯৭২ সালের সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিস (লিভ) নীতি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বছরে ৩০ দিন অর্জিত ছুটি, ২০ দিন হাফ পে লিভ, ৮ দিন ক্যাসুয়াল লিভ এবং ২ দিন রেস্ট্রিক্টেড ছুটি নিতে পারবেন। এর বাইরে, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পরিচর্যার জন্যও বিশেষ ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকছে। এই পদক্ষেপ কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতি শুরু:
দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় খবর হলো অষ্টম বেতন কমিশন চালু হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে তাদের বেতন, ভাতা ও পেনশনে বড়সড় বদল ঘটবে। সংসদের বাদল অধিবেশনে লোকসভায় এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।

পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থ মন্ত্রক বিভিন্ন দফতর, মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, কর্মী ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার। লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এখনো কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি।

ডিএ বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অষ্টম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের পর কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে AICPI-IW সূচক ছিল ১৪৩, যা মে মাসের মধ্যে ১৪৪-এ পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিএ-ডিআর (Dearness Relief) ৩-৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। সরকার সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই দুটি ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। এটি একদিকে যেমন তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে, তেমনি পারিবারিক দায়বদ্ধতা পালনেও সুবিধা দেবে।