রাজ্যজুড়ে ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপের তান্ডব, বজ্রপাতে একদিনে মৃত্যু ১৬ জনের!

ঘূর্ণাবর্ত থেকে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টির জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় একদিনেই বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। মৃতদের অধিকাংশই ছিলেন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত, কেউ ধান রোপণ করছিলেন, আবার কেউ বাড়ির আশপাশে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে বাঁকুড়া জেলায়। একদিনেই সেখানে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস, জয়পুর— প্রায় প্রতিটি ব্লক থেকেই মৃত্যুর খবর মিলেছে। কোতুলপুরে জিয়াউল হক মোল্লা নামে এক কৃষক ধান রোপণ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা আসপিয়া মোল্লা গুরুতর আহত হয়েছেন। ওন্দা ব্লকে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান নারায়ণ সাওয়ার (৪৮)। ইন্দাসে ইসমাইল মণ্ডল (৬০) এবং জয়পুরের খড়িকাশুলি গ্রামের উত্তম ভুঁইয়াও বজ্রাঘাতে মারা গিয়েছেন। জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বজ্রপাতের সময় মাঠে কাজ করছিলেন বহু মানুষ, যার জেরে হতাহতের সংখ্যা এতটা বেড়েছে।

পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। এই জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। এঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন কৃষি শ্রমিক, আবার কেউ আত্মীয়ের জমিতে কাজ করছিলেন। আউশগ্রামের সঞ্জয় হেমব্রম (২৮) মাঠে ধান রোপণের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। মাধবডিহির সনাতন পাত্র (৬০)-ও একইভাবে মারা গিয়েছেন। ভাতার ব্লকে বাজ পড়ে আরও চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের লাহিরগঞ্জ গ্রামে কৃষক লক্ষ্মীকান্ত পান (৪২)-এর মৃত্যু হয়েছে বজ্রাঘাতে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও, পুরুলিয়ার ঝালদা থানার অন্তর্গত গুরিডি গ্রামে সুমিত্রা মাহাতো (৪৫) নামে এক মহিলা খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মারা গিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের বামুনপুকুর পাড় এলাকায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় টানা বৃষ্টির ফলে একটি পুরনো বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ে অনিমা বিশ্বাস (৬০) নামে এক মহিলা চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের উপর ঘনীভূত নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী দিনগুলিতেও রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সাবধানে থাকার এবং বজ্রপাতের সময় সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।