গভীর নিম্নচাপটির কী গতিবিধি? বাংলায় টানা ৫ দিন ভারী বৃষ্টি, জেনেনিন আপডেট

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে ভারী বর্ষণ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভিজেছে কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলা, আর শুক্রবার সকালেও আকাশের মুখ ভার। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই বর্ষণ অব্যাহত থাকবে, যার ফলে একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল বরাবর একটি গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম দিক বরাবর অগ্রসর হবে, যার প্রভাবে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ থেকে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু জেলায় বৃষ্টির সাথে ঘন্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা:
আজ কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু কিছু স্থানে প্রবল বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস:
শনিবার: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বীরভূমের কিছু অংশে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা।
রবিবার: দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার: হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার: পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া জেলার কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের কিছু অংশেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস:
আজ থেকে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও দক্ষিণবঙ্গের মতো অতটা তীব্র না হলেও, কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতার আবহাওয়া:
রাতভর বৃষ্টির জেরে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যা নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯৮ শতাংশ এবং ন্যূনতম ৬৬ শতাংশ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনো হেরফের হবে না।
এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় সকলকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।