সাধারণের জন্য নয়, বিশেষ অনলাইন ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন শুধু ‘এরা’ই…রেলের নয়া পদক্ষেপ!

ভারতীয় রেলওয়ে শুধুমাত্র নতুন ট্রেন চালু করেই ক্ষান্ত নয়, যাত্রী পরিষেবা উন্নত করতেও বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি টিকিট বুকিং নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেমন তৎকাল টিকিটের জন্য আধার বাধ্যতামূলক করা এবং চার্ট প্রকাশের সময় এগিয়ে আনা। এবার আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল, যা সাধারণ যাত্রীদের বদলে বিশেষভাবে সাংসদদের সুবিধার্থে তৈরি। শীঘ্রই চালু হতে চলেছে একটি নতুন অনলাইন টিকিট বুকিং পোর্টাল, যা শুধুমাত্র লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

এই নতুন পোর্টাল থেকে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট বুক করতে পারবেন না। বরং, বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদরা এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি ট্রেনের টিকিট বুকিং বা বাতিল করতে পারবেন। গত বুধবার (২৩শে জুলাই) লোকসভায় এক লিখিত জবাবে এই নতুন ব্যবস্থার কথা জানান কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, “একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের জন্য, যেখান থেকে সংসদের বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদরা ট্রেনের টিকিট বুকিং বা ক্যানসেল করতে পারবেন।”

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদরা ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাস এসি বা এক্সিকিউটিভ ক্লাসে যাতায়াতের বিশেষ সুবিধা পান। এর সাথে তাদের স্বামী বা স্ত্রীও এই সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এছাড়াও, সাংসদের সঙ্গে থাকা একজন ব্যক্তি রেলওয়ে পাসে এসি টু টায়ারে যাতায়াত করতে পারেন। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন বা না চলাকালীনও সাংসদের স্বামী বা স্ত্রী যেকোনো সময় নিজ শহর থেকে নতুন দিল্লি পর্যন্ত এসি ফার্স্ট ক্লাস বা এক্সিকিউটিভ ক্লাসে যাতায়াত করতে পারেন।

এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সাংসদদের জন্য টিকিট বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুগম করবে। তবে, সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। এক শ্রেণির মতে, যখন সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন সাংসদদের জন্য বিশেষ পোর্টাল কতটা জরুরি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার আরেক শ্রেণির মতে, সাংসদদের কাজ ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য এমন একটি ডেডিকেটেড পোর্টাল থাকা যৌক্তিক। রেলের এই নতুন পদক্ষেপ সাধারণের জন্য পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি ভিভিআইপি সুবিধা প্রদানে কতটা ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।