ফের লাগলো যুদ্ধ! থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘাত চরমে, আকাশ জুড়ে রকেট-ফাইটার জেট

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘাত চরমে পৌঁছেছে, যা এখন কার্যত যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করেছে বলে থাই সেনা দাবি করেছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার ছোড়া রকেটে এক থাই সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, দুই দেশের সীমান্ত থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিয়ে বিবাদ চলে আসছে। এই বিবাদ মূলত থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং লাওসের মধ্যে অবস্থিত এমারেন্ড ট্রায়াঙ্গেল নামে পরিচিত এলাকাটিকে ঘিরে, যেখানে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে। এই এলাকাটি কার, তা নিয়ে বহু দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগেও কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সংঘাত হয়েছিল। গত মে মাসেও দুই দেশের সেনারা সংঘাতে জড়িয়েছিল, যাতে একজন কম্বোডিয়ান সেনার মৃত্যু হয়।

যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও পাল্টা অভিযোগ

বৃহস্পতিবার নতুন করে সংঘাত শুরু হতেই থাইল্যান্ড সীমান্তে ৬টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। থাই সেনার দাবি, একটি বিমান কম্বোডিয়ার একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা করে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান মানেত-ও এই হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর গুলিতে দুজন থাই নাগরিক নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে বলে থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে। পাল্টা কম্বোডিয়ার অভিযোগ, থাইল্যান্ডই প্রথমে গুলি চালিয়েছে। উভয় দেশই সীমান্ত লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আবেদন

সংঘাতের আবহে কম্বোডিয়া ব্যাংকক থেকে নিজেদের দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদেরও বহিষ্কার করেছে। থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে যে, কম্বোডিয়া ‘অটোয়া চুক্তি’ লঙ্ঘন করেছে এবং সীমান্তে ক্রমাগত আগ্রাসন চালাচ্ছে।

দুই দেশই তাদের মধ্যে পর্যটন ও বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। থাইল্যান্ড তাদের দেশে কম্বোডিয়ার পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, এবং পাল্টা কম্বোডিয়াও একই পদক্ষেপ নিয়েছে। দুই দেশের সেনাবাহিনী সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় হামলার অভিযোগ করেছেন। পাল্টা থাইল্যান্ড কম্বোডিয়াকে ‘অমানবিক ও যুদ্ধপ্রিয়’ বলে নিন্দা করে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাদের আগ্রাসনের নিন্দা করার অনুরোধ জানিয়েছে।