বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনে তীব্র আপত্তি! কড়া বার্তা দিলেন নির্বাচন কমিশন

বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের সংসদ। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন অভিযানে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “ভারতীয় সংবিধান ভারতের গণতন্ত্রের জননী। নির্বাচন কমিশন কি কয়েকজন মানুষের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে, মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে অভিবাসী ভোটার, দুই জায়গায় ভোট দেওয়া ভোটার, ভুয়ো ভোটার অথবা বিদেশি ভোটারদের নামে প্রথমে বিহারে, তারপর সারা দেশে ভুয়ো ভোট দেওয়ার পথ তৈরি করবে?” কমিশনের এই বিবৃতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, একটি পরিশুদ্ধ ভোটার তালিকাই হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভিত্তি এবং একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের স্তম্ভ। কমিশনের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সংবিধানবিরোধী পথে হাঁটা কি শুধু বিরোধীদের খুশি করার জন্য যুক্তিসঙ্গত? এবং অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে এই পদক্ষেপ কি অপরিহার্য নয়?” কমিশন সমস্ত নাগরিককে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর গভীরে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিহারে ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ২০ লক্ষ মৃত, ২৮ লক্ষ অন্য কেন্দ্রে চলে যাওয়া এবং ৭ লক্ষ একাধিক স্থানে নাম নথিভুক্ত ভোটার। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু, দলিত এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ভোটারদের বাদ দেওয়ার একটি চক্রান্ত, যা বিজেপির নির্বাচনী সুবিধার জন্য করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা ক্রমাগত আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সভাপতির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আলোচনা অনুমোদন না পাওয়ায় লোকসভা ও রাজ্যসভা বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টেও এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। শীর্ষ আদালত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও এর সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পাশাপাশি, কমিশনকে আধার, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড—এই তিনটি পরিচয়পত্রকেই গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিহারের ভোটারদের মধ্যে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই বিতর্ক আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও উত্তপ্ত হবে।