SBI ‘জালিয়াত’ ঘোষণা করতেই অনিল আম্বানির সংস্থায় হানা ED-র

শিল্পপতি অনিল আম্বানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে নেমে এল এক বড়সড় ধাক্কা। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) তার সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশন এবং এর প্রোমোটার-ডিরেক্টর অনিল আম্বানিকে ‘ফ্রড’ ঘোষণার পরই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে তাদের একাধিক দফতরে হানা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে আর্থিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ইডি সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানটি কেবল এসবিআই-এর ‘ফ্রড’ ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং একাধিক নিয়ন্ত্রক এবং আর্থিক সংস্থার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো হয়েছে। ন্যাশনাল হাউসিং ব্যাঙ্ক, সেবি, ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথোরিটি, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং সিবিআই-এর দায়ের করা দুটি এফআইআর-ও এই তদন্তের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। যদিও ইডি অনিল আম্বানির একাধিক দফতরে হানা দিলেও, তার বাসভবনে কোনো অভিযান চালানো হয়নি।

পাবলিক ফান্ডের অপব্যবহারের অভিযোগ

ইডি-র মূল অভিযোগ হলো, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে অনিল আম্বানির সংস্থা পাবলিক ফান্ডকে ঘুরপথে অন্য কাজে ব্যবহার করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক, শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন যে, এই আর্থিক নয়ছয় একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনার অংশ ছিল।

ইয়েস ব্যাঙ্কের ঋণও ইডি-র স্ক্যানারে

এই মামলার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইয়েস ব্যাঙ্কের সঙ্গে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের ঋণ সংক্রান্ত লেনদেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অনিল আম্বানির সংস্থা ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। ইডি-র অভিযোগ, ঋণ পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সেই টাকা ব্যাঙ্কের প্রোমোটারদের কাছে সরিয়ে ফেলা হয়। রিলায়েন্স হোম ফিনান্স লিমিটেডের কর্পোরেট ঋণেও একই ধরনের গরমিল সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসবিআই-এর ‘ফ্রড’ ঘোষণার পর ইডি-র এই অভিযান অনিল আম্বানির সংস্থার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এই তদন্তের পর আরও অনেক নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।