প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মতো তাঁর ছবি সরকারি অফিসে টাঙানো হোক, চাইতেন ধনখড়, দাবি রিপোর্টে

ভারতের উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফার পর রাজনৈতিক মহলে তাঁর ও সরকারের মধ্যে সংঘাত নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা ধনখড়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসছে এমন কিছু তথ্য, যা এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সামনে এল আরও একটি প্রতিবেদন, যেখানে ধনখড়ের একাধিক দাবি এবং তার জেরে সরকারের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের কথা বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, জগদীপ ধনখড় চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি মন্ত্রীদের অফিসে তাঁর ছবিও টাঙানো হোক। এছাড়াও, তিনি তাঁর গাড়ির বহরে মার্সিডিজ বেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি বা তাঁর দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারত সফরে আসার আগে ধনখড় বলেছিলেন, “আমিও উপরাষ্ট্রপতি। আমি তাঁর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করব।” এই বিষয়ে একজন প্রবীণ ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাঁকে বোঝান যে, ভ্যান্স উপরাষ্ট্রপতি হলেও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, জগদীপ ধনখড় নিজের জন্য রাষ্ট্রপতির মতো প্রোটোকল চাইতেন। তিনি নাকি একাধিকবার বলেছেন যে, বিদেশ সফরের সময় তিনি রাষ্ট্রপতির সমান প্রোটোকল প্রত্যাশা করেন। এর জেরে সরকারি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বেশ কয়েকবার মতবিরোধ হয়েছিল। হোটেল থেকে বিমান পর্যন্ত, তাঁর মনে হয়েছিল তাঁকে সঠিক সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান সফরে গিয়েও ধনখড় নিজের হোটেলের ঘর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, ভারতীয় দূতাবাস তাঁর সম্মান অনুযায়ী ঘর দেয়নি। যদিও ভারতীয় দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, আয়োজক সরকারের তরফ থেকে সেই আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সফরে তিনি তাঁর বিমান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে উপরাষ্ট্রপতির জন্য আরও বড় বিমান থাকা উচিত।

এই সমস্ত ঘটনাগুলি জগদীপ ধনখড় ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে এনেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে, যা এই বিতর্ককে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।