“মুখ ফিরিয়ে নেন রাজনাথও!”-ধনকরের ইস্তফা নিয়ে বাড়ছে রহস্য, কুর্সিতে এ বার কে?

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আচমকা পদত্যাগ ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জল্পনার অন্ত নেই। স্বাস্থ্যগত কারণের কথা বলা হলেও, পর্দার আড়ালে ঘটে যাওয়া এক নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহই যে তার ইস্তফার মূল কারণ, সেই ইঙ্গিত এখন ক্রমশ স্পষ্ট। জানা যাচ্ছে, পদ বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিলেন সদ্য-প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া অবস্থানে শেষ পর্যন্ত তাকে পিছু হটতে হয়।

সংসদীয় সূত্র অনুযায়ী, গত সোমবার বিচারপতি যশবন্ত বর্মার ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে রাজ্যসভায় বিরোধীদের আনা মোশন গ্রহণ করা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এর পরেই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ধনখড় প্রথমে বিজেপির ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের শরণাপন্ন হন। কিন্তু রাজনাথের কাছ থেকে কোনো সাহায্যের ইঙ্গিত না পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানান। সেই আবেদনও নাকচ হয়ে যায়। উভয় জায়গা থেকেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এটি শীর্ষ স্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে তার সাক্ষাতের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার তার শেষ চেষ্টা। কিন্তু কোনো রফাসূত্র না মেলায় সেদিন রাত ৯টার পরেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

বিরোধীদের চাপ এবং সরকারের নীরবতা

ধনখড়ের পদত্যাগ প্রসঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন লোকসভার তৃণমূল সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ধনখড়কে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার রাত ৯টার মধ্যে ইস্তফা না দিলে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার হুমকিও দেওয়া হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন যে, রাজনাথ সিংকে নাকি পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি পদে বসানোর কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অসুস্থতার কথা বলেছিলেন, এখন সুর পাল্টেছেন।

অসন্তুষ্টির কারণ: সুপ্রিম কোর্ট ও সঙ্ঘ পরিবার

ধনখড়ের ইস্তফার নেপথ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে আসছে। সূত্রের খবর, একটি সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—উভয়েই প্রবলভাবে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। এমনকি, সঙ্ঘ পরিবারও এই বিষয়ে তার ওপর রুষ্ট ছিল বলে তাকে জানানো হয়েছিল।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে। তবে এই পদত্যাগের নাটকীয়তা এবং এর নেপথ্যে থাকা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জল্পনা দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আরও কিছুদিন বজায় থাকবে।