শ্রাবণ অমাবস্যায় করুন এই কাজ, শিবের আশীর্বাদ লেভার পাশাপাশি মিটবে অর্থের সংকট!

শ্রাবণ মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি, শ্রাবণী অমাবস্যা আজ, বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে। শ্রাবণ শিবরাত্রির ঠিক পরের দিন এই অমাবস্যা তিথি উদযাপিত হয়। এই বিশেষ দিনে নবগ্রহ শান্তি এবং পিতৃ শান্তির পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি, দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা করারও রীতি রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এবারের শ্রাবণী অমাবস্যা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে গুরু পুষ্য যোগ, সর্বার্থসিদ্ধি যোগ এবং অমৃত সিদ্ধি যোগের সংযোগের কারণে, যা এই তিথির প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই শুভ যোগের উপস্থিতিতে কিছু বিশেষ উপায় করলে শিবের অশেষ আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব।
হরিয়ালি অমাবস্যা এবং তিথির সময়:
শ্রাবণের এই অমাবস্যাকে অনেক অঞ্চলে হরিয়ালি অমাবস্যা নামেও অভিহিত করা হয়। এর কারণ হলো, শ্রাবণ মাসে বর্ষার আগমনে প্রকৃতি সবুজ সাজে সেজে ওঠে। এই বছর ২৪শে জুলাই, বৃহস্পতিবার শ্রাবণী অমাবস্যা পড়েছে। তিথিটি ২৪শে জুলাই রাত ২টা ২৮ মিনিটে শুরু হয়েছে এবং ২৫শে জুলাই দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে শেষ হবে।
শিবভক্ত ও পূর্বপুরুষদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য:
শ্রাবণ মাস দেবাদিদেব মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় মাস হওয়ায় শ্রাবণী অমাবস্যার গুরুত্ব শিবভক্তদের কাছে অপরিসীম। এই তিথিতে পূর্বপুরুষদের পূজা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পিতৃপুরুষদের শান্ত করা এবং তাঁদের আশীর্বাদ লাভের জন্য এই তিথিতে সহজ উপায়গুলি অবলম্বন করা যায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, বেঁচে থাকার সময় সমস্ত সুখ, মৃত্যুর পর মুক্তি এবং স্বর্গে যাওয়ার বাসনায় এই অমাবস্যায় পূজা করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই অমাবস্যা তিথিতে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান করে ইষ্ট দেবতা এবং পূর্বপুরুষদের পূজা করলে বিশেষ শুভ ফল লাভ হয়।
অর্থকষ্ট দূর করতে জ্যোতিষীর বিশেষ উপায়:
জ্যোতিষী রাহুল দে এই বিশেষ দিনে অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কার্যকরী উপায়ের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, “কোনো বিশেষ মনোস্কামনা পূরণ করতে বা অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে একটি বেলপাতার সঙ্গে ১০৮টি চালের দানা (ভাঙা যেন না হয়) একসঙ্গে শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন। নিজের মনোস্কামনা জানাতে জানাতে এই উপায় করলে সারা বছর অর্থের অভাব হবে না এবং খুব ভালো উপকার পাওয়া যাবে।”
ব্রত পালনের নিয়মাবলী:
বছরের এই তিথি অন্যান্য অমাবস্যার মতোই তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা অমাবস্যার ব্রত পালন করে উপবাস করেন, তাঁদের নিরামিষ এবং সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা উচিত। রান্নার সময় অতিরিক্ত তেলমশলা ব্যবহার না করার এবং বাসি খাবার পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।