উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা, এবার কী কী সরকারি সুবিধা পাবেন ধনকড়? জেনেনিন

নাটকীয়ভাবে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। হঠাৎ এই ইস্তফার কারণ নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকলেও, আলোচনার মধ্যেই আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে: পদত্যাগের পরেও কি তিনি সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন? নিয়ম অনুযায়ী, বাংলার এই প্রাক্তন রাজ্যপালের জন্য ঠিক কী কী সুবিধা বরাদ্দ করা হয়েছে?

অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির মতোই সুবিধা

নিয়ম অনুসারে, একজন উপরাষ্ট্রপতি যদি দু’বছরের বেশি সময় ধরে নিজের দায়িত্ব সামলানোর পর পদত্যাগ করেন, তাহলে তাঁকে অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির মতোই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। সেই নিয়ম মেনেই, জগদীপ ধনখড় মাসিক পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন। ২০১৮ সালের বাজেট অনুযায়ী, একজন অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির বার্ষিক পেনশনের পরিমাণ অন্তত ৪৮ লক্ষ টাকা। এই অঙ্কের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মাসিক পেনশন হিসাবে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ধনখড় মাসিক ২ লক্ষ টাকার বেশি পেনশন পাবেন।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

পেনশন ছাড়াও, সদ্য পদত্যাগ করা জগদীপ ধনখড় আরও বেশ কিছু সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

বাসস্থান: তিনি ‘টাইপ এইট’ ক্যাটাগরির একটি সরকারি বাংলো পাবেন। এই বাংলোর বিদ্যুৎ এবং জলের বিলও সরকার বহন করবে।

ভ্রমণ: তিনি বিনামূল্যে আকাশপথে এবং রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

চিকিৎসা: তার জন্য নিখরচায় চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে এবং একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসকও পাবেন।

কর্মচারী: তাঁর জন্য দু’জন ব্যক্তিগত সচিব এবং তার স্ত্রীর জন্য একজন ব্যক্তিগত সচিব নিয়োগ করা হবে।

অন্যান্য: সরকারি তরফে কিছু আসবাবপত্র এবং দু’টি মোবাইল ফোনও তিনি পাবেন।

নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু

এদিকে, যখন ধনখড়ের হঠাৎ পদত্যাগ নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখনই নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। বুধবার এই সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়। শিগগিরই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে এবং বর্তমানে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ তৈরির কাজ চলছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপি তাদের জোটসঙ্গী নয়, বরং নিজস্ব দল থেকেই পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।