শ্বাসনালীতে ওষুধ আটকে মৃত্যু IIT খড়্গপুরের পড়ুয়ার?-দেহ নিতে এসে কাঁদলেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা

সাধারণ অসুস্থতা থেকে বড় বিপদ। শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া ওষুধ প্রাণ কেড়ে নিল আইআইটি খড়্গপুরের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের। সোমবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ পরিবার, হতভম্ব সহপাঠীরা। চন্দ্রদীপ পাওয়ার, বছর ১৯, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ও আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। জওহরলাল নেহরু হলের আবাসিক ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে ১৫ জুলাই ফের ক্যাম্পাসে ফিরেছিলেন চন্দ্রদীপ। ফেরার পর থেকেই সামান্য সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। সোমবার দুপুরে আইআইটির বি সি রায় হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। সন্ধ্যায় বাবা-মাকে ফোন করে জানান, ‘সব ঠিক আছে’। কিন্তু রাত পেরোনোর আগেই সব ওলটপালট।

রাত ৯টার পরে বাবা-মার সঙ্গে শেষ কথা হয় তাঁর। রাত ১১টার কিছু আগে চন্দ্রদীপের এক বন্ধু ফোন করে জানান, ওষুধ খাওয়ার সময় কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, ওষুধ শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়ায় চোকিংয়ের ফলে তাঁর হৃদরোগ হয় এবং রাত ১১টা ৫ মিনিটে মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, বন্ধুরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই তিন জন সিনিয়র চিকিৎসক একযোগে চেষ্টা চালান। CPR, লাইফ-সাপোর্ট ও শ্বাসনালীর অবরুদ্ধতা দূর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এমনকী গলায় আটকে থাকা ওষুধও বার করা হয়। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

চন্দ্রদীপের বাবা জয়রাম পাওয়ার, যিনি নিজেও ক্যান্সারে আক্রান্ত, ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন। বলেন, “রাত ৯টা পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। ওর সঙ্গে কথাও হলো। হঠাৎ কী হয়ে গেল!” একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে আর কোনও প্রেরণাই খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল মেডিসিনাল চোকিং’ অর্থাৎ দুর্ঘটনাবশত ওষুধ শ্বাসনালীতে ঢুকে যাওয়ার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। রুমটি সিল করা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় মেদিনীপুর মেডিক্যালে। সেখান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা রওনা দেন নিজ রাজ্যে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনাকে ‘কমপ্লিট চোকিং’ বলা হয়, যেখানে শ্বাসনালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে তা দ্রুত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। পড়ুয়াদের মানসিক আঘাত সামাল দিতে মনোবিদের সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এই হঠাৎ মৃত্যু শুধু এক ছাত্রকে কেড়ে নেয়নি, বড় করে এক ভবিষ্যৎকেও থামিয়ে দিল। আর একবার প্রমাণ হল, ছোট অসতর্কতা কখনও কখনও চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে।