একুশের সভা থেকে ফিরেই মাঝরাতে পরকীয়ায় মত্ত TMC নেতা! বেঁধে রাখা হল ল্যাম্পপোস্টে

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ২১শে জুলাইয়ের সভা থেকে ফেরার পর মাঝরাতে এক মহিলার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তিনি। গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে সারারাত তাঁকে একটি ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার এবং ২৪৮ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি আগে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে কাজ করলেও, কর্মক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর চাকরি চলে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত ২১শে জুলাই সন্ধ্যায়, যখন ওই নেতা কলকাতা থেকে দলের সভা সেরে গ্রামে ফেরেন। এরপর রাতেই তিনি পাশের বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের তাঁতিপাড়া এলাকায় যান। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন প্রতিবেশীরা।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শত শত মানুষ জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা ওই নেতাকে মারধর করে এবং শাস্তি হিসেবে তাঁকে একটি ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে রাখে। সারারাত তিনি ওই অবস্থাতেই ছিলেন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে জয়নগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ওই মহিলাসহ অভিযুক্ত নেতাকে থানায় নিয়ে যায়।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এই ধরনের আচরণ করা ক্ষমার অযোগ্য। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিরোধীরা এই ঘটনাকে সামনে এনে শাসক দলের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
যদিও এখনো পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা তদন্ত করছে, তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, ল্যাম্পপোস্টে বাঁধা ওই নেতার ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে, যা বিতর্কের আগুনে আরও ইন্ধন যোগাচ্ছে।