IIT-খড়গপুরে ফের ছাত্রের মৃত্যু, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা, বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

দেশের অন্যতম নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খড়গপুর আইআইটি-তে আবারও এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুই ছাত্রের মৃত্যু হওয়ায় ক্যাম্পাসে এবং শিক্ষামহলে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, মৃত ছাত্রের নাম চন্দ্রদীপ পাওয়ার। তিনি মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন এবং নেহরু হলের ডি-৪০৮ রুমে থাকতেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রদীপ বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর-সর্দিতে ভুগছিলেন। সোমবার রাতে খাবার খাওয়ার পর চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খান তিনি। তখনই তার শ্বাসনালীতে ওষুধ আটকে গিয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দ্রুত তাকে আইআইটি খড়গপুরের বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সিপিআর-ও (Cardiopulmonary Resuscitation) দেওয়া হয়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষের তরফে মৃত পড়ুয়ার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঋতম মণ্ডলের রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার:
অন্যদিকে, কিছুদিন আগেই খড়গপুর আইআইটি-র রাজেন্দ্র প্রসাদ হলের ২০৩ নম্বর রুম থেকে ঋতম মণ্ডল (২৫) নামে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার তার বন্ধুরা ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আইআইটি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে খড়গপুর টাউন থানার অধীনস্থ হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘর থেকে ঋতমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঋতমের দেহ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল। ঋতমের বাড়ি কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকায়। এটি আত্মহত্যার ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
উদ্বেগ ও প্রশ্ন:
এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি ভিন্ন ধরনের মৃত্যুর ঘটনা খড়গপুর আইআইটি-এর মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই দুটি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশের নিবিড় তদন্ত এবং আইআইটি কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে শিক্ষাবিদ মহল ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেদিকেও কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।