21 জুলাই ঘিরে তুমুল উন্মাদনা! পিকনিকের মুডে তৃণমূল কর্মীরা? তাঁবু টাঙিয়ে এলাহি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন!

অপেক্ষার অবসান। সোমবার ভোরের আলো ফোটার মুহূর্তেই ধর্মতলায় শুরু হলো তৃণমূলের বার্ষিক ২১শে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে যানজট এড়াতে সকাল ৯টার মধ্যে মিছিল শেষ করার কথা থাকলেও, তার অনেক আগে থেকেই জনসমুদ্র দেখা গেল ধর্মতলার পথে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার স্সময়ের আগেই কর্মী-সমর্থকদের ঢল নেমেছে সভাস্থলে। সকাল সাড়ে ৬টায় মেয়ো রোডে যে ভিড় দেখা গেল, তা গত বছর ৯টার সময় দেখা যেত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের ভিড়ে ধর্মতলা এখন উৎসবের চেহারা নিয়েছে।
পিকনিকের মুডে কর্মী-সমর্থকরা:
শহীদ স্মরণে ২১শে জুলাইয়ের এই সমাবেশ ঘিরে এবার তুমুল উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিউটাউনের রাম মন্দির প্যাঁচার মোড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ঢল নেমেছে। তাঁবু টাঙিয়ে এলাহি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছেন অনেকে। বসিরহাট, হাড়োয়া, আন্দুলিয়া, রোহান্ডা, মধ্যমগ্রাম থেকে আসা কর্মীরা ভুরি ভোজের আয়োজন করেছেন। কোথাও গ্যাস ওভেন জ্বালিয়ে রান্না হচ্ছে ভাত, ডাল, আলু, পটল, চিংড়ি, মুরগির মাংস। আবার কোথাও ভাত, ডাল, আলু, পটল, চিংড়ি, মটন – এলাহি আয়োজনে সরগরম এলাকা। এই আয়োজনগুলি দেখে মনে হচ্ছে যেন এক বিশাল পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে।
‘জীবন ভান্ডার’ হাতে প্রতীকী মমতা:
সমাবেশের এক অন্যরকম চিত্র দেখা গেল ধর্মতলায়। সোনারপুরের হৃদিকা দাস নামে এক বিরল স্নায়ু রোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য ১৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। অসুস্থ হৃদিকার জন্য ‘জীবন ভান্ডার’ হাতে ক্রাউড ফান্ডিং করছেন এক প্রতীকী মুখ্যমন্ত্রী। এই মানবিক উদ্যোগ সমাবেশে আসা মানুষের নজর কেড়েছে।
মিছিলে মিশে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়:
হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন হাওড়ার সাধারণের ভিড়েই দেখা গিয়েছে। সভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি বলেন, “মানুষের পাশে থাকব। আজকের দিনে মঞ্চে নিশ্চয়ই যাব। এত অগুনতি মানুষ ধর্মতলার দিকে যাচ্ছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।” হাওড়া থেকে ফেরির মাধ্যমে মিছিলে কাতারে কাতারে মানুষজন ধর্মতলার পথে রওনা দিয়েছেন। এই ভিড়ের মাঝে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধর্মতলার পথে পা বাড়িয়েছেন।
শিয়ালদহে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের তদারকি, কেন্দ্রের দিকে অভিযোগ:
শিয়ালদহ স্টেশনে আগত কর্মী-সমর্থকদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই ব্যাপারটি নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে দেখভালের কাজে নেমে পড়েছেন হাবড়ার তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র দল, যাদের বুথ লেভেলের কমিটি রয়েছে। এটা কারওর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দিচ্ছেন, তা জানতেই এত কর্মীরা ছুটে আসছেন।”
জ্যোতিপ্রিয়র পাশেই বসেছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। ২১শে জুলাইয়ের সভার দিনেও তিনি কেন্দ্রের দিকে বন্দুক তাক করে রয়েছেন। জীবনকৃষ্ণের অভিযোগ, “গত দু’দিন ধরে সময়ের আগেই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে যাচ্ছিল। আজ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেনের দেখা নেই। সবাই সব কিছুই বোঝেন।”
অভিষেকের গড় ডায়মন্ড হারবার থেকে ৩০০ বাস:
শহীদ স্মরণে শয়ে শয়ে বাস অভিষেকের গড় ডায়মন্ড হারবার থেকে ধর্মতলার দিকে রওনা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথ থেকে একটি করে বাস ছাড়া হয়েছে। মোট বাসের সংখ্যা প্রায় ৩০০, যাতে চেপে ৩০ হাজার কর্মী-সমর্থক ধর্মতলায় এসেছেন।
রাজ্যের সমস্ত জেলার নেতা-কর্মী এসে পৌঁছেছেন ধর্মতলার ২১শে জুলাইয়ের সভা মঞ্চে। কোথাও উঠছে অভিষেকের সমর্থনে স্লোগান, কারওর বুকে আবার মমতার ছবি। চোখের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ এবং তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে বারংবার ‘ধাক্কা’ সত্ত্বেও এই বিশাল জনসমাবেশ প্রমাণ করে তৃণমূলের অসংগঠিত শক্তির। অপেক্ষা শুধু একটাই – পরের বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোন দিকে থাকবে তৃণমূলের অভিমুখ, তা জানা যাবে আজকের সভামঞ্চ থেকেই।