গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্র হত্যা মামলায় নয়া মোড়, বাংলা থেকে গ্রেফতার হলেন শুটার

পটনার পারস হাসপাতালে কুখ্যাত অপরাধী চন্দন মিশ্র হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় সাফল্য পেল বিহার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর, পটনা পুলিশ এবং বিহারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর যৌথ অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এই গ্রেফতারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে জানা যাচ্ছে, কুখ্যাত অপরাধী শেরু সিং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত মূল শুটারদের ধরা সম্ভব হয়েছে।

কীভাবে জালে পড়ল অপরাধীরা?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পটনা পুলিশ ও STF-এর একটি যৌথ তদন্তকারী দল পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালায় এবং চন্দন মিশ্র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একাধিক অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। মোট কতজন গ্রেফতার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বিহার পুলিশ মূলত পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলে বন্দি শেরু সিংয়ের অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেই এ রাজ্যে এসেছিল বলে জানা গেছে। এই অভিযানই অভিযুক্তদের ধরতে সাহায্য করেছে।

হাসপাতালে নৃশংস খুন ও তৌসিফের ‘রাউডি’ স্টাইল
সম্প্রতি পটনার পারস হাসপাতালে রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয় কুখ্যাত অপরাধী চন্দন মিশ্রকে। পাঁচজন শুটার হাসপাতালের আইসিসিইউ-তে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এই ঘটনা বিহারের অপরাধ জগতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। এরপর থেকেই শুটারদের খোঁজে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

জানা গেছে, হাসপাতালে চন্দন মিশ্রকে যারা গুলি চালিয়েছিল, সেই তালিকায় একেবারে সামনে ছিল তৌসিফ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে ‘রাউডি’ স্টাইলে হাতে বন্দুক নিয়ে হাসপাতালের আইসিসিইউ-তে প্রবেশ করে। খুন করার পর বাকিরা দ্রুত পালিয়ে গেলেও, তৌসিফ ধীরেসুস্থে নিজস্ব স্টাইলে বেরিয়ে যায়। তার এই ‘স্টাইল’ পুলিশের নজর কেড়েছিল।

‘গ্যাংওয়ার’ নাকি পুরনো বিবাদ?
বিহার পুলিশের এডিজি কুন্দন কৃষ্ণ গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, চন্দনের হত্যা শেরু সিংয়ের গ্যাংয়ের লোকজনই করেছে। উল্লেখ্য, শেরু সিং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া কারাগারে বন্দি। একসময় শেরু এবং চন্দন অপরাধ জগতের ‘পার্টনার’ ছিল। তবে বছর কয়েক আগে একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং এরপর থেকেই শেরু সিং ও চন্দন মিশ্রর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পুলিশের ধারণা, এই পুরনো বিবাদের জেরেই চন্দন মিশ্রকে খুন করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারি এই মামলার তদন্তে একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। বিহার পুলিশ দ্রুতই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।