OMG! ৩ বছরের শিশুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেলো চিতাবাঘ, ডুয়ার্সে ফের তুমুল আতঙ্ক

বারান্দায় বসেছিল ছোট্ট শিশুটি। দাদুর কোলের পাশেই খেলছিল আপন মনে। আচমকাই অন্ধকারে ঝাঁপিয়ে পড়ল এক বিভীষিকা – একটি চিতাবাঘ! মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে মুখে তুলে নিয়ে মিলিয়ে গেল চা বাগানের ঝোপের গভীরে। কিছুক্ষণ পর মিলল তার থেঁতলানো মৃতদেহ। শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার আংরাভাসা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কলাবাড়ি চা বাগানে ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় শোকের মাতম আর ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।

মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার হয়েছে ৩ বছরের শিশু আয়ুষ কালান্দি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর আয়ুষ তার দাদুর সঙ্গে বাড়ির বারান্দায় বসেছিল। রাত তখন প্রায় ৯টা। হঠাৎই একটি চিতাবাঘ ঢুকে পড়ে আয়ুষকে মুখে করে টেনে নিয়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে লোকজন চিৎকার শুরু করলে, একজন স্থানীয় ব্যক্তি হাতের সামনে থাকা একটি চেয়ার চিতাবাঘের দিকে ছুঁড়ে মারেন। কিন্তু তাতেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই চা বাগানের ঝোপের মধ্য থেকে আয়ুষের খুবলে খাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

একমাত্র সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মা পুনিতা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আয়ুষের বাবা নেই। পুনিতা দেবী বাগানে শ্রমিকের কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালান। এই ঘটনার পর তাঁর ভবিষ্যৎ ঘোর অনিশ্চিত।

এই ঘটনায় গোটা কলাবাড়ি চা বাগান জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বন দপ্তরের ডায়না ও বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের কর্মীরা এবং বানারহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাঁদের ঘিরে ধরে তুমুল ক্ষোভ দেখাতে থাকে। বন দপ্তরের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী স্লোগান দিতে শুরু করে। বহু কষ্টে তাঁদের বুঝিয়ে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

কলাবাড়ির শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, এই চা বাগানে দীর্ঘদিন ধরে চিতাবাঘের একের পর এক হামলা চলছে। অতীতে বন দপ্তরের পেতে রাখা খাঁচায় পরপর তিনটি চিতাবাঘ ধরাও পড়েছিল। কিন্তু তারপরও বন দপ্তরের পক্ষ থেকে চিতাবাঘের উপদ্রব কমাতে বা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় সুরক্ষা বাড়াতে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলস্বরূপ আজ আবার একটি নিষ্পাপ প্রাণ গেল।

জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সীমা চৌধুরি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই শোকের কোন ভাষা নেই। পরিবারটির পাশে প্রশাসন ও বন দপ্তর সবরকম ভাবে থাকবে।” যদিও প্রশাসন ও বন দপ্তরের আশ্বাসে পরিবার ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ বিন্দুমাত্র কমছে না। তাদের দাবি, শুধু সহানুভূতি নয়, দরকার স্থায়ী সমাধান – যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হতে না হয়।

এই ঘটনা আবারও রাজ্যের বনাঞ্চল সংলগ্ন লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হামলা এবং মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন তুলে দিল।