Google-এর ডিসকভার ফিডে AI, যুক্ত হচ্ছে নতুন ফিচার, জানুন সুবিধে ও অসুবিধে

গুগল অ্যাপের ডিসকভার ফিডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সংবাদের সারাংশ (সামারি) প্রদর্শন শুরু করেছে গুগল। এই নতুন সুবিধা চালু হওয়ায় নির্বাচিত ব্যবহারকারীরা এখন একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর সংক্ষিপ্ত আকারে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে, এর ফলে সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ওয়েবসাইটে পাঠকের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা তাদের আয় ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের অনেকেই ইতিমধ্যেই গুগল অ্যাপের ডিসকভার ফিডে এই নতুন সুবিধা দেখতে পাচ্ছেন। গুগল নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো পরীক্ষামূলক কার্যক্রম নয়, বরং আনুষ্ঠানিকভাবেই চালু করা হয়েছে। ডিসকভার ফিডে প্রদর্শিত সংবাদের সারাংশগুলোর ওপরের বাঁ পাশে একাধিক ওভারল্যাপ করা চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই সংক্ষিপ্ত সারাংশটি বিভিন্ন সংবাদ উৎসের তথ্য একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে।
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য সমস্যা:
ব্যবহারকারীরা চাইলে এই ওভারল্যাপ করা চিহ্নে ক্লিক করে ‘মোর’ অপশনের মাধ্যমে সংবাদের মূল শিরোনামগুলোর তালিকা দেখতে পারবেন। প্রতিটি সারাংশের নিচে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া থাকছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এই সারাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়ায় এতে ভুল থাকতে পারে। প্রতিটি সংবাদের তিন লাইনের সংক্ষিপ্ত সারাংশ প্রদর্শনের পর ব্যবহারকারী ‘সি মোর’ অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়তে পারবেন। গুগলের তথ্যমতে, এই নতুন সুবিধায় মূলত খেলা, বিনোদনসহ জীবনধারাভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদের সারাংশ পড়া যাবে, যা পাঠকদের সহজে বুঝতে সাহায্য করবে কোন ওয়েবসাইটের সংবাদ পড়া উচিত।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের উদ্বেগ:
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে, গুগলের এই এআই-নির্ভর সুবিধা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পাঠকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিজ্ঞাপন থেকে আয় এবং পাঠকসংখ্যায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর আগেও গুগল সার্চে ‘এআই ওভারভিউ’, ‘অডিও ওভারভিউ’ এবং ‘এআই মোড’ চালু করেছে, যেগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মূল ওয়েবসাইটে প্রবেশ না করেই বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন।
এই নতুন সুবিধা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের জন্যই নয়, গুগলের নিজস্ব এআই ব্যবস্থার জন্যও ভবিষ্যতে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁদের যুক্তি, যদি তথ্যের মূল উৎস, অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়, তবে এআই প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, যা স্বয়ং গুগলের এআই ব্যবস্থার গুণগত মানকেও প্রভাবিত করবে।
সূত্র: দ্য ভার্জ