পহেলগাঁও হামলার ছক পাকিস্তানেই, কারা করেছে? সব কিছু জানিয়ে দিলো আমেরিকা

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছর এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল হোতা পাকিস্তানি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে, যা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

গত বছরের ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় টিআরএফ-এর বর্বরোচিত হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন কাশ্মীরি নিহত হন। এই নৃশংস ঘটনায় সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছিল।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে ‘সময়োপযোগী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জঙ্গি কাঠামো ধ্বংসের জন্য ভারত বরাবরই বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। টিআরএফ-কে সন্ত্রাসী দলের তকমা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই প্রতিফলন।” জয়শঙ্কর আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন যে, সন্ত্রাসবাদের ইস্যুতে ভারত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে।

জানা গেছে, পহেলগাঁও হামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন টিআরএফ-কে এই সন্ত্রাসী তকমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার পর ভারত কূটনৈতিক স্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি ওঠে। এর ফলস্বরূপ, গত বছরের ৭ই মে মধ্যরাতে ভারত পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের নয়টি স্থানে জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেয়, যা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই অভিযানে পাকিস্তান পর্যুদস্ত হয় এবং এরপর তারা সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের একাধিক শহরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে ভারতের দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে ইসলামাবাদের সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।