বেঙ্গালুরু পদপিষ্ট কাণ্ড! RCB’কেই কাঠগড়ায় তুলল সরকার, প্রকাশ্যে হাইকোর্টের রিপোর্ট

গত ৪ জুন বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কাছে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের প্রাণহানি এবং ৫৬ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় এবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি)-কেই সরাসরি দুষল কর্ণাটকের সিদ্দারামাইয়া সরকার। হাইকোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে, পুলিশের পরামর্শ বা অনুমতি ছাড়াই একতরফাভাবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিজয় মিছিলের জন্য জনসাধারণকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আরসিবি।
কর্ণাটক হাইকোর্টের নির্দেশে প্রতিবেদনটি সাধারণ জনগণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার আদালতকে এই প্রতিবেদনটি গোপন রাখার জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু আদালত জানায় যে, এই ধরনের গোপনীয়তার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, এই মর্মান্তিক ঘটনায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন অনেকে। কারণ, সিএম সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার উভয়েই সেদিন আরসিবির বিজয় উৎসবে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি পদপিষ্টের ঘটনায় যখন গোটা দেশ স্তম্ভিত, তখনও চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভিতরে আরসিবির অনুষ্ঠান চলতে থাকে।
ঘটনার পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স স্পোর্টস লিমিটেডের মার্কেটিং হেড নিখিল সোসালেকে পদপিষ্টের ঘটনায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, এই ঘটনায় এফআইআর রুজু করা ইনস্পেক্টর একে গিরিশাকে সাসপেন্ড করেছিল রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, আরসিবি দল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের আরও বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার পরে কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের উচ্চ পদে থাকা বেশ কয়েকজন কর্তা পদত্যাগ করেছিলেন।
তবে এই ঘটনায় আরসিবির দিকে আঙুল ওঠার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে, আরসিবি-র মতো একটি বেসরকারি ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য কেন রাজ্য সরকার গ্র্যান্ড রিসেপশন আয়োজন করেছিল? আরও অভিযোগ, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইপিএল জয় উদযাপনে অংশ নিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জনসাধারণকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।