“ট্যাক্স-লা বলা উচিত”! টেসলা শো-রুম উদ্বোধন হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের ঝড়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ভারতের মাটিতে পা রাখল ইলন মাস্কের ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা টেসলা। ১৫ই জুলাই মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্সে (বিকেসি) তাদের প্রথম শোরুমের উদ্বোধন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, টেসলা মডেল ওয়াই ভারতে উপলব্ধ হবে এবং মনে করা হচ্ছে ১লা অগাস্ট থেকেই গাড়িগুলি ভারতীয় ক্রেতাদের হাতে পৌঁছানো শুরু করবে। তবে, এই উচ্ছ্বাসের আবহেই উদ্বোধনের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের সংস্থা।
নেটিজেনরা মূলত টেসলার আকাশছোঁয়া দাম এবং ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, “৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জ। মাহিন্দ্রা, টাটা, হুন্ডাই, এই ব্র্যান্ডগুলিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর প্লিজ স্বচালিত গাড়ির গল্প শুনিয়ে লাভ নেই। এটা ভারত, এখানে ম্যানুয়ালি গাড়ি চালিয়েও আপনি নিরাপদ নন। তাহলে কীভাবে স্বচালিত প্রযুক্তির উপর ভরসা করবেন?”
আরেকজন নেটিজেন টেসলার উচ্চ করের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “যদি আপনি ভারতে একটি টেসলা মডেল ওয়াই কেনেন, তাহলে আপনাকে কোম্পানিকে প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা এবং সরকারকে ২৮ লক্ষ কর দিতে হবে। এটি যদি কর আদায় না হয়, তাহলে আমি জানি না এটি কী।” কেউ কেউ রসিকতা করে টেসলাকে ‘ট্যাক্স-লা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
অন্য এক নেটিজেন আমদানি শুল্কের বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, “আমদানি শুল্ক এবং অথবা অন্যান্য করের কারণে টেসলা মডেল ওয়াই-এর দাম দ্বিগুণ। রোড ট্যাক্স, বিমা, জিএসটি ইত্যাদি যোগ করা হবে। যতক্ষণ না টেসলা ভারতে উৎপাদন বা অ্যাসেম্বলিং শুরু করে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সফল হবে না।” আরেকজনের প্রশ্ন, “এটা একটা বিরাট করের বোঝা! কোনও দেশ কি তার নাগরিকদের উপর এভাবে কর আরোপ করে?”
ভারতের সড়ক এবং আবহাওয়ার সঙ্গে টেসলার মতো গাড়ির উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “মহিন্দ্রা, টাটা, হুন্ডাইয়ের গাড়িগুলিই আমাদের জন্য উপযুক্ত। এখানে ‘সেল্ফ ড্রাইভিং’ আদৌ কাজে আসবে না।” বর্ষাকালের জলমগ্ন রাস্তার ছবি পোস্ট করে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, “ভারতের বর্ষাকালের জন্য টেসলা তৈরি তো!”
কেন টেসলার দাম আকাশছোঁয়া?
ভারতে টেসলা মডেল ওয়াই-এর দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। জানা গেছে, আপাতত দুটি সংস্করণে মডেল ওয়াই গাড়ি বাজারে এনেছে টেসলা। রিয়ার-হুইল ড্রাইভ মডেলের দাম ৭০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০.১ লক্ষ টাকা), এবং লং-রেঞ্জ সংস্করণের দাম ৭৯ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৭.৮ লক্ষ টাকা)। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই মডেলের গাড়ির দাম ৪৪,৯৯০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৮.৬ লক্ষ টাকা)। এই বিশাল দামের পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো ভারতের উচ্চ আমদানি শুল্ক, যা আমদানিকৃত গাড়ির উপর ৭০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য করা হয়।
ভারতে টেসলার এই উচ্চ মূল্য এবং তার ফলে নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরূপ প্রতিক্রিয়া, ইলন মাস্কের সংস্থার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই বিপুল করের বোঝা এবং ভারতীয় বাজারের উপযোগীতার প্রশ্ন টেসলার ভবিষ্যৎ সফলতার পথে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।