“যদি আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন”-এবার PM মোদীকে কেন হঠাৎ হুঁশিয়ারি দিলেন NATO প্রধান

রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস কেনা এবং তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ভারত, ব্রাজিল ও চিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট। বুধবার মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে এই দেশগুলিকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
মার্ক রুট এই তিনটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনাকে গুরুত্ব সহকারে নিতে চাপ দিতে। রুট বলেন, “আপনি যদি চিনের প্রেসিডেন্ট হন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন, অথবা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন এবং আপনি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যান এবং তাদের তেল ও গ্যাস কিনতে থাকেন, তাহলে আপনি জানেন। যদি মস্কোর ব্যক্তিটি শান্তি আলোচনাকে গুরুত্ব সহকারে না নেন, তাহলে আমি ১০০ শতাংশ সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব। এই তিনটি দেশকে আমি বলতে চাই যে আপনি হয়ত এটি একবার দেখে নিতে চাইতে পারেন। কারণ এটি আপনার উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “দয়া করে ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করুন এবং তাঁকে বলুন যে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে, কারণ অন্যথায় এর প্রতিক্রিয়া ব্রাজিল, ভারত এবং চিনের উপর ব্যাপকভাবে পড়বে।”
সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন এবং রাশিয়া ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর ব্যাপক শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন। এর পরপরই মার্ক রুটের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন। এছাড়াও, ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার রফতানির উপর ১০০% শুল্ক আরোপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৫০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি না হলে রাশিয়ার তেল কিনতে থাকা দেশগুলির উপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। তিনি বলেন, “৫০ দিনের মধ্যে যদি আমাদের কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে এটি খুব খারাপ হবে। শুল্ক আরোপ অব্যাহত থাকবে এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাও অব্যাহত থাকবে। কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়াই সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করা যেতে পারে। আমরা সেকেন্ডারি করতে পারি। আমরা সম্ভবত ১০০ শতাংশ বা এরকম কিছুর কথা বলছি। আমরা সিনেট, হাউস ছাড়াই সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করতে পারি, কিন্তু তারা যা তৈরি করছে তাও খুব ভালো হতে পারে।”
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়া আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে এই আলটিমেটামগুলি অগ্রহণযোগ্য এবং কোনো ফলাফল আনবে না।”
উল্লেখ্য, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, চিন এবং তুরস্ক। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে এই দেশগুলি, বিশেষ করে ভারত গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।