টানা বৃষ্টিতে বাংলায় বন্যা পরিস্থিতি, মাটির বাড়ি ভেঙে মৃত ৩, আহত আরও ৩

নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। এরই মধ্যে পুরুলিয়া জেলার ১ নম্বর রমাইগড়া গ্রামের শবরটোলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। গভীর রাতে মাটির বাড়ি ধসে চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন তিন জন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এই ঘটনা জেলার সর্বত্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে বাড়িটি ধসে পড়েছে, তাতে পরিবারের ছয়জন সদস্য ঘুমিয়েছিলেন। গত কয়েকদিন ধরেই পুরুলিয়া-সহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার ফলে মাটি ভিজে নরম হয়ে গিয়েছিল। গতকাল সোমবার রাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে মাটির বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সেই সময় পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় বাইরে বেরোতে পারেননি।

বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। খবর পেয়ে আজ সকালে টামনা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়। ভাগ্যক্রমে, আরও তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাঁদের দ্রুত চাকলতোড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

এই দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, একবিংশ শতাব্দীতেও কেন এই পরিবার মাটির বাড়িতে বাস করছিল, যখন সরকারি আবাস যোজনার মতো প্রকল্প চালু রয়েছে? এই প্রসঙ্গে জেলার সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, “ওই পরিবার আবাস যোজনার বাড়ি পেয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেখানে থাকতেন না। তাঁরা একটি জঙ্গল ঘেরা নির্জন জায়গায় থাকতেন, এবং সেটি একটি মাটির বাড়ি ছিল।” এই মন্তব্যের পর নতুন প্রশ্ন উঠেছে যে, আবাস যোজনার প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে কি এই মাটির বাড়িটিই তৈরি হয়েছিল, নাকি নতুন পাকা বাড়ি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা সেখানে থাকতেন না? এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা একদিকে যেমন বৃষ্টির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে, তেমনই আবাসন প্রকল্পগুলির যথাযথ ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।