তসর রঙের পাঞ্জাবি, মাথায় টোপর, চুপিসারেই বিয়ে করে নিলেন সায়ক, পাত্রী কে জানেন?

সম্প্রতি একটি জমি কিনে বড়সড় এক কাণ্ড করে বসলেন অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই ছবি পোস্ট করে জানালেন, সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন তিনি! তসর রঙের পাঞ্জাবি আর মাথায় টোপর পরে শুভ পরিণয়ের ছবি শেয়ার করতেই নিমেষে তা ভাইরাল। কিন্তু কে এই পাত্রী?
ফ্যানেরা যখন পাত্রী কে তা নিয়ে কৌতূহলী, তখনই প্রকাশ্যে আসে চমকপ্রপ্রদ তথ্য। পাত্রী আর কেউ নন, ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ, ‘কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ খ্যাত অভিনেত্রী অয়ন্যা চট্টোপাধ্যায়। অয়ন্যাকেও দেখা গেল পুরোদস্তুর বাঙালি কনের সাজে— গায়ে বেনারসি, সঙ্গে সোনার গয়না আর মাথায় টোপর। বর-কনে দু’জনকেই মানিয়েছে বেশ। যদিও তাঁদের বয়সের পার্থক্য অনেকটাই। তবে এখানেই প্রশ্ন, এই বিয়ে কি সত্যিই আসল? নাকি কোনও শ্যুটেরই অংশ?
সায়ক ও অয়ন্যা এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে নিঃসন্দেহে এটি কোনও শ্যুট বা প্রোমোশনের কারণেই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের ‘বিয়ে’তে গায়িকা তথা ইউটিউবার দেবলীনাকেও দেখা গেছে। আপাতত সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সায়ক ও অয়ন্যাকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন অনুরাগীরা। এর আগে সোমবার সকালে সায়ক তাঁর গায়ে হলুদের ছবিও শেয়ার করেছিলেন। যদিও এই ‘বিয়ে’তে তাঁদের বন্ধুরা উপস্থিত থাকলেও, পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়নি। প্রসঙ্গত, কদিন আগে ইউটিউবার প্রেরণা এভাবেই সৈকতের সঙ্গে বিয়ের ফোটো দিয়ে নেটিজেনদের ‘বোকা’ বানিয়েছিলেন।
বাংলা সিরিয়ালের এক পরিচিত মুখ সায়ক চক্রবর্তী। মাঝে বেশ কয়েক বছর তাঁকে ছোট পর্দায় দেখা যায়নি। করোনা লকডাউন চলাকালীন তিনি ভ্লগিং শুরু করেন, যা বেশ জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বড় ব্র্যান্ডের প্রোমোশন করেন তিনি। এছাড়াও, ‘তুই আমার হিরো’ ও ‘চিরসখা’— এই দুটি ধারাবাহিকের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। কিছুদিন আগেই ‘তুই আমার হিরো’ ধারাবাহিকে তিনি পালিয়ে গিয়ে বিয়ের দৃশ্যে অভিনয় করে দর্শকদের বেশ চমকে দিয়েছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই অভাবের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন অভিনেতা সায়ক। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে সায়ক এবং তাঁর সাংবাদিক দাদাকে বড় করেছেন তাঁদের মা। তবে এখন মায়ের ছোট থেকে বড়, যেকোনো ইচ্ছে পূরণ করতে বদ্ধপরিকর সায়ক। মায়ের জন্য বাড়িও বানাচ্ছেন তিনি। বাইপাসের ধারে পিয়ারলেস হাসপাতালের পাশে তিনি একটি জমি কিনেছেন এবং রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন মায়ের নামেই। প্ল্যান পাশ হলেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।