আপনিও কি শুভাংশুর মতো মহাকাশে পারি দিতে চান? কী ভাবে শুরু করবেন প্রস্তুতি? জানুন

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করে মহাকাশ জয় করেছেন ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। সব ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই, ২০২৫) ইলন মাস্কের ড্রাগন ক্যাপসুলেই তাঁর দেশে ফেরার কথা। উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার মহাকাশ অভিযানের চার দশক পরে তিনিই দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিলেন, যা দেশের জন্য এক বিরাট গর্বের মুহূর্ত। এই ঐতিহাসিক অভিযানের জন্য তাঁকে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) ইতিমধ্যেই প্রধান মহাকাশচারী হিসেবে মনোনীত করেছে। শুভাংশুর এই সাফল্য যদি আপনাকেও মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখায়, তাহলে তার প্রস্তুতি যে শুরু করতে হবে এখন থেকেই।
কীভাবে মহাকাশচারী হওয়া যায়?
যারা মহাকাশচারী হতে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে গভীর পড়াশোনা এবং প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: Aeronautics, Astrophysics, Aviation, Aerospace, Aeronautical Engineering ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও গবেষণামূলক পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও গণিতের বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকাটা অপরিহার্য।
শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা: কেবল জ্ঞান থাকলেই হবে না। মহাকাশ অভিযানের মতো চরম ধকল নেওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি অত্যন্ত ফিট হওয়াটাও জরুরি। মহাকাশচারীদের কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
মহাকাশচারীরা কত বেতন পান?
মহাকাশচারীদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন নির্ধারিত নেই। এটি নির্ভর করে তাঁদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর। উদাহরণস্বরূপ, নাসার মহাকাশচারীরা সাধারণত ফেডারেল সরকারের GS-12 থেকে GS-13 স্তরের পে-স্কেলের অধীনে বেতন পান।
ISRO ও NASA-তে নির্বাচন প্রক্রিয়া:
নাসা (NASA) এবং ইসরো (ISRO)-তে মহাকাশচারী হওয়ার জন্য অত্যন্ত কঠোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক স্তরের ইন্টারভিউ, বিস্তারিত শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা এবং মহাকাশ কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রাথমিক প্রশিক্ষণ।
নাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যোগ্যতা: নাসায় মহাকাশচারী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়াও, ১,০০০ ঘণ্টার জেট এয়ারক্রাফটে পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে, আবেদনকারীর অবশ্যই আমেরিকার নাগরিক হওয়াটা প্রয়োজনীয়।
শুভাংশু শুক্লার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং অনেককে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।