PM মোদীকে হাজার কেজি আম পাঠালেন ইউনূস, আম গিফট মমতাকেও, জেনেনিন কেন?

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের মধ্যেও এক ব্যতিক্রমী সৌজন্যের নজির স্থাপন করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর যে ‘আম-কূটনীতি’র ধারা বজায় রাখতেন, এবার সেই পথেই হাঁটলেন ইউনূস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো হচ্ছে বিশেষ জাতের আম।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে পাঠানো এক হাজার কেজি সুস্বাদু আম সোমবারই নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। একই সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিপুরাতেও আম পাঠাতে ভোলেননি নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।

কোন আম আসছে ভারত সফরে?
বাংলাদেশ দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, এবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাঠানো হচ্ছে বিখ্যাত ‘হাড়িভাঙা’ আম। রংপুর অঞ্চলের এই বিশেষ আম বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। এক-একটি হাড়িভাঙা আমের ওজন ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। রসালো ও আঁশবিহীন এই আম এবার ভারতের মানুষকে চেখে দেখার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে ভারত সফরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য হিমসাগর, ল্যাংড়া বা আম্রপালির মতো সুস্বাদু আম পাঠাতেন।

‘আম-কূটনীতি’র প্রেক্ষাপট:
গত বছর জুলাইয়ের আন্দোলনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণে কিছু পরিবর্তন এসেছে। শেখ হাসিনা এখন নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় নয়াদিল্লি একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, হাসিনা’র প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠিও দিয়েছে ঢাকা। এই পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ইউনূসের এই ‘আম-সৌজন্য’ দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কতটা গলাতে পারে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে ব্যাঙ্ককের বিমস্টেক সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইউনূসের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয় অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর। সেই সাক্ষাতে মোদী গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা ইউনূসকে জানিয়েছিলেন এবং দুই দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তখন জানিয়েছিল যে, অনুকূল পরিস্থিতিতে ঢাকা’র সঙ্গে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ভারত ইচ্ছুক। তবে এরপরও বাংলাদেশে একাধিক সংখ্যালঘুর ওপর হামলা, পুজোস্থল ভাঙচুর, ধর্ষণ-খুনের মতো ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে এই আবহে ‘আম-সৌজন্য’ কি সত্যিই নতুন কোনো মোড় আনবে?

ব্যবসায়ী খুন ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ: এদিকে, বাংলাদেশে সম্প্রতি ব্যবসায়ী লালচাঁদ সোহাগের নৃশংস হত্যাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। সেখানকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পুলিশি তদন্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছেন। এমন এক অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতকে আম উপহার দেওয়াকে কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহল ‘বাংলাদেশের দ্বিচারিতা’ হিসেবেও উল্লেখ করছেন, যা এই ‘আম-কূটনীতি’কে আরও জটিল করে তুলেছে।