AIR INDIA -র ওই ফ্লাইটে ফুয়েল কন্ট্রোল হঠাত্ বন্ধ কে করল? দুর্ঘটনা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

আহমেদাবাদে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AIIB) এর প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, উড়ানের পর মাঝ আকাশেই বিমানটির ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ’ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ‘রান’ মোড থেকে ‘কাট অফ’ মোডে চলে গিয়েছিল। আর এই আকস্মিক পরিবর্তনেই ককপিটে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যার ফলস্বরূপ ২৬০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি ঘটে টেক অফের পরই, যখন বিমানটি আহমেদাবাদের মেঘানিনগর এলাকার বিজে মেডিক্যাল কলেজের বিল্ডিংয়ের উপর ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বিমানের ২৬০ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র ১ জন বেঁচে যান এবং মেডিক্যাল কলেজের ১৯ জন ছাত্রও প্রাণ হারান।
ককপিটে বিভ্রান্তি:
AIIB-র শনিবার প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে সিনিয়র পাইলট তাঁর জুনিয়রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তুমি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ কেন অফ করেছ?” জবাবে জুনিয়র পাইলট বলেছিলেন, “আমি তো সুইচ অফ করিনি।” এই কথোপকথনই ইঙ্গিত দেয় যে, পাইলটদের অজান্তেই ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা উড়ানে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে।
TCM বদলানো হয়েছিল, কিন্তু…
তদন্ত রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে যে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির থ্রটেল কন্ট্রোল মডিউল (TCM), যেখানে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ থাকে, তা ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে দুইবার বদলানো হয়েছিল। বোয়িংয়ের ২০১৯ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৪ হাজার ঘণ্টা উড়ান সম্পন্ন হলে ড্রিমলাইনারের সকল অপারেটরকেই TCM বদলাতে হয়। পিটিআই সূত্রে খবর, এই নির্দেশিকা মেনেই এয়ার ইন্ডিয়া TCM পরিবর্তন করেছিল। তবে, AIIB-র রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, TCM বদলানোর সঙ্গে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের এই সমস্যার কোনো সম্পর্ক নেই।
আগেও ছিল আশঙ্কার মেঘ:
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ’ নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) কিছু বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ‘লকিং ফিচার’ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ইনস্টল করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। FAA তখন জানিয়েছিল যে, এটি বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু সেই সময় ওই সুইচগুলোকে ‘অসুরক্ষিত’ বলে দেগে দেওয়া হয়নি বা কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
AIIB টিমের তদন্তকারীদের এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আগেই করা হয়েছিল এবং এটি উড়ানের যোগ্যতাও অর্জন করেছিল। এই পরিস্থিতিতে, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ভূমিকা আবারও প্রশ্নের মুখে। এই ঘটনা কি শুধু একটি যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ লুকিয়ে আছে, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।