OMG! নাবালিকা শ্যালিকাকে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ, গ্রেফতার হলেন জামাইবাবু

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে এক পনেরো বছরের নাবালিকা শ্যালিকাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে তার জামাইবাবু তুষার ব্যাপারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নাবালিকার অভিযোগ, দিঘায় বেড়ানোর নাম করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার ওপর প্রথম অত্যাচার শুরু হয়। এরপর হাবড়া থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তুষার ব্যাপারীর সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ চলছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সে তার নাবালিকা শ্যালিকাকে টার্গেট করে।

২০২৪ সালের ২৭শে নভেম্বর নাবালিকার মা অশোকনগর থানায় তার মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান না মেলায় পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে।

বেশ কিছুদিন পর মেয়েটি হঠাৎ বাড়িতে ফিরে আসে এবং মাকে নিয়ে সরাসরি থানায় যায়। সেখানেই সে তার জামাইবাবুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে। আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দেওয়া জবানবন্দিতেও মেয়েটি তার জামাইবাবুর দ্বারা লাগাতার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানায়।

অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই তুষার ব্যাপারী পলাতক ছিল। অবশেষে রবিবার সকালে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মানিকতলা ভ্যান স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এরপর ধৃতকে বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে পুলিশ ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়।

এদিকে, অভিযুক্ত তুষারের মা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, “ওরা আমাদের ফাঁসানোর জন্যই মেয়েকে পাঠাতো। শুধু আমার ছেলে নয়, ওদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।” এই ঘটনায় নতুন মোড় নিয়ে এসেছে এই অভিযোগ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং নাবালিকার অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তের মায়ের দাবিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।